থঙ্গরাসু নটরাজন আর মুহম্মদ সিরাজের মধ্যে খুব মিল অনেকগুলো বিষয়ে।তামিলনাডুর সালেম জেলা শহর থেকে আরও ৪০ কিলোমিটার দূরের গ্রামের ছেলে নটরাজনের বাবা একটা কাপড় কলের দিনমজুর, মা কাজ করেন একটা মুরগীর মাংস দোকানে।

তেলেঙ্গানার রাজধানী হায়দ্রাবাদের মুহম্মদ সিরাজের বাবা অটোরিক্সা চালান, মা কিছুদিন আগেও কাজ করতেন অন্যের বাড়িতে।দুজনেই যে শুধু অত্যন্ত গরীব পরিবার থেকে উঠে এসেছেন, তা নয়, আরও মিল আছে।দুজনেই এবার ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগ বা আই পি এলে জায়গা পেয়েছেন।

আর দুজনেই কল্পনাও করেন নি কখনও যে তাঁদের খেলার দাম এত বেশী!আবার দুজনেই নিজের খেলার টাকা দিয়ে বাবা-মাকে একটু ভাল রাখতে চায়।নটরাজনকে তিন কোটি টাকা দিয়ে কিনে নিয়েছে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব আর সিরাজকে দুইকোটি ৬০ লাখ টাকা দিয়ে কিনেছে তার শহরেরই দল সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ।

‘লেফ্টু মণি’ নামে তামিলনাডুর ঘরোয়া ক্রিকেট মহলে পরিচিত নটরাজন বিবিসিকে বলছিলেন, “আমি স্বপ্নেও এটা আশা করি নি যে এত দাম উঠবে। খুব ভাল লাগছে। বাবা-মা-ও খুব খুশী, যদিও ওরা ক্রিকেট সম্বন্ধে কিছুই জানেন না।”

ছ বছর আগে পাড়ার অলিতে-গলিতে ক্রিকেট খেলা দিয়ে শুরু করেছিলেন নটরাজন। নিজের দলকে জেতাতে পারলে কিছু টাকাপয়সা হাতে পেতেন। তারপরে একটা সময়ে তামিলনাডু ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের ঘরোয়া লীগ জায়গা পেয়েছিলেন তিনি। তখন থেকেই নিয়মিত রোজগারের শুরু।

“বছর তিনেক হল খেলার জন্য একটা সংস্থার থেকে বেতন পাই। কলেজেও ভর্তি হয়েছি স্পোর্টস কোটাতে, তাই বিনা খরচেই পড়তে পেরেছি,” জানাচ্ছিলেন নটরাজন।

পরিবারের অনেক ধার দেনা রয়েছে, আই পি এলের টাকায় সেটা মেটাতে চান নটরাজন।মুহম্মদ সিরাজও চান আই পি এল থেকে যে টাকা পাবেন, তা দিয়ে তাঁর বাবার দেনা মেটাতে। “বাবাকে আর অটোরিক্সা চালাতে দেব না। এখন বাবা ঘরে বসে থাকবে,” বিবিসিকে বলছিলেন মুহম্মদ সিরাজ।

সিরাজ একটা সময়ে অবশ্য ডিউজ বল নয়, টেনিস বল দিয়ে ক্রিকেট খেলতেন।সিরাজের মা একটা সময়ে দু:খ করতেন যে ও বড়ভাইয়ের মতো পড়াশোনাটা করল না বলে।এখন অবশ্য ওর বাবার মতোই খুব খুশী ছেলের পারফর্ম্যান্সে!

LEAVE A REPLY