মিস ইউনিভার্সের ৬৫তম আসরে আলো ছড়াল ফরাসি মডেল ইরিস মিত্তেনা। বিশ্বের ৮৫টি দেশের সুন্দরীদের হটিয়ে এ প্রতিযোগিতায় মুকুট জিতেছেন প্যারিসের এ কুইন। গেল মাসের শেষদিকে ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলার মল অব এশিয়া এরেনায় তিন ঘণ্টার জমকালো আয়োজনে নতুন মিস ইউনিভার্স হিসেবে ইরিসের নাম ঘোষণা করা হয়।

ইরিসের মাথায় মুকুট পরিয়ে দেন গতবারের মিস ইউনিভার্স ফিলিপাইনের পিয়া আলোনজো ওয়ার্ৎজবাক। এ আয়োজনের মাধ্যমে নিজেকে বিশ্বের সেরা সুন্দরীদের তালিকায় নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান।

ফরাসী এ সুন্দরী মডেলিংয়ের পাশাপশি একজন দন্ত চিকিৎসকও। তাই রোগীদের নিয়ে অন্যরকম ভাবনা ছিল তার। মিস ইউনিভার্স হওয়ার পর তার সে ইচ্ছে এবার পূরণের পথ প্রশস্থ হয়েছে বলেই জানিয়েছেন।

উত্তর ফ্রান্সের ছোট্ট শহর লিলায় বেড়ে ওঠা ২৪ বছর বয়সী এই তরুণী ডেন্টাল সার্জারিতে ডিগ্রি নিচ্ছেন এখন। মিস ইউনিভার্স ওয়েবসাইটে ইরিস আগেই প্রতিশ্রুতি দিয়ে রেখেছেন, সেরার স্বীকৃতি পেলে দন্ত ও মৌখিক স্বাস্থ্যবিধির পক্ষে পরামর্শক হিসেবে কাজ করবেন। বিশ্বসুন্দরীদের এ আয়োজনে ইরিসের সুবাদেই প্রায় ৬৪ বছর পর আবার মিস ইউনিভার্সের মুকুট গেল ফ্রান্সের দখলে।

সর্বশেষ ১৯৫৩ সালে এটি জিতেছিলেন ক্রিস্টিয়ান মার্টেল। এছাড়া ইউরোপের কোনো সুন্দরী এক দশকেরও বেশি সময় পর এই খেতাব পেলেন। মুকুট জয়ের পর ৫ ফুট সাড়ে ৭ ইঞ্চি উচ্চতার ইরিস বলেছেন, ‘মিস ইউনিভার্সের মুকুট জিতে খুব চমকে গিয়েছি আমি। এটা আমার জন্য সত্যিই অনেক সম্মানের। প্রত্যেক মেয়েই মিস ইউনিভার্স হতে চায়। এই মঞ্চটা অসাধারণ, সবকিছুই বিস্ময়কর।’

শিশু ও মেয়েদের জন্য শিক্ষার ব্যাপারে সচেতনতা বৃদ্ধিতে অংশ নিতে চান বলেও জানিয়েছেন ইরিস। তিনি বলেন, ‘আমি মানুষকে সহযোগিতা করতে চাই। মানুষকে বুঝতে চাই। মানুষের কাছাকাছি যেতে চাই। এজন্যই মিস ইউনিভার্স হওয়া ছিল আমার স্বপ্ন।’

সুন্দরীদের এ আয়োজনে সেরা তিন প্রতিযোগীর জন্য শেষ প্রশ্ন ছিল, জীবনে ব্যর্থ হয়েছেন কিনা আর তা থেকে কী শিখেছেন। প্রশ্নে ইরিস সাবলিল উত্তর দিয়েছেন। জানিয়েছেন, ‘আমি জীবনে কয়েকবার ব্যর্থ হয়েছি। ব্যর্থ হলে মনকে বড় রেখে এগিয়ে যাওয়ার জন্য বারবার চেষ্টা করতে হয়। আমিও ব্যর্থ হয়েছি, তবে এটাই আমার জন্য সবচেয়ে বড় সুযোগ।

তবে বিজয়ী হওয়ার পরই সমাজে আট দশটা মেয়ের মত যে তিনি সমাজে বেড়ে উঠেনি এ কথাও জানান তিনি। জানান তার সাফল্যের পিছনের গল্প। যে গল্পে উঠে এসেছে তার সংগ্রামী জীবনের ছবি। মানুষের দুঃখে পাশে দাঁড়ানোর ছবি। নিজের জীবনে সংগ্রাম করেছেন বলেই একটি দাতব্য সংস্থা দিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াতে যাচ্ছেন এ তারকা। বিশ্বসুন্দরীর খেতাব জয়ের পর ফ্যান্সে নিজের শহরে ইতোমধ্যে তার কাজও শুরু করে দিয়েছেন।

সম্প্রতি নিজের দেশের একটি গণমাধ্যমে তার বর্তমান কাজের উপর একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন তিনি। সেখানে ছোট্ট পরিসরে বড় কিছুর দিকে এগিয়ে যাওয়া কথা বলার পাশাপশি নিজের মানব সেবার নানা বিষয় তুলে ধরেছেন। বলেছেন, ‘যারা সংগ্রাম করবেন তাদের পাশে আছি আমি।

LEAVE A REPLY