গ্যাসের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার পর খুলনাসহ দেশের কোনো কোনো এলাকায় এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বাস-ট্রাকের ভাড়া বাড়ানোরও পাঁয়তারা শুরু করেছেন মালিকেরা। এরপর গ্যাসভিত্তিক শিল্পে উৎপাদিত জিনিসের দামও বাড়বে। ফলে গ্যাসের দাম বাড়ানোর বিরূপ প্রভাব পড়বে সমগ্র জনগণের ওপর।

গতকাল শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে সিপিবি-বাসদের নেতারা এসব কথা বলেন। গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে আগামী মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঢাকায় হরতাল এবং সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেন তাঁরা। তবে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের যাতায়াত ও পরীক্ষা কেন্দ্র হরতালের আওতামুক্ত থাকবে বলে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ঢাকাবাসীর উদ্দেশে বলা হয়, জনগণ যে গ্যাসের দাম বাড়ানোর অযৌক্তিক সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ এবং এ সিদ্ধান্তের প্রত্যাহার দাবি করে, সরকারকে তা জানানো প্রয়োজন। এ জন্য দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার আগেই হরতাল ডাকা হয়েছে। প্রতিদিন ঢাকার মানুষ সকাল ৯টা-১০টায় কাজে বের হন। হরতালের দিন ১২টার পর বের হলেই সরকারের কাছে গণদাবি পৌঁছাবে।
সিপিবির কেন্দ্রীয় কার্যালয়—মুক্তি ভবনের প্রগতি সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন ও সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা বলছেন, পাইপলাইনের গ্যাস ও এলপি গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারকারীদের মধ্যে বৈষম্য কমানোর ও সমতা আনার জন্য গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, সিলিন্ডার গ্যাসের দাম কমিয়ে এই সমতা আনার চেষ্টা করছেন না কেন?
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, আবাসিক খাতে দাম বাড়ানো হয়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ, আবাসিক গ্রাহকদের গ্যাসের দাম ধার্য করা হয় প্রতি মাসে একজন গ্রাহক ৯২ ঘনমিটার গ্যাস ব্যবহার করবেন ধরে নিয়ে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, ৫০ ঘনমিটারের বেশি কেউ ব্যবহার করেন না।
বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান বলেন, গ্যাস খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো লাভজনক। তাদের দাম বাড়ানোর আবেদনই তো গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। গণশুনানিতেও দাম বাড়ানোর যৌক্তিকতা প্রমাণ করা যায়নি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাসদের কেন্দ্রীয় নেতা বজলুর রশীদ ফিরোজ। সিপিবির কেন্দ্রীয় নেতা সাজ্জাদ জহির চন্দন প্রারম্ভিক বক্তব্য দেন।
বিভিন্ন দলের প্রতিবাদ
আমাদের ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি জানান, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদ জানিয়েছি। গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে বামপন্থী দলগুলোর ডাকা হরতাল আমরা সমর্থন করি।’ এই সমর্থন ব্যক্তিগত না দলীয়—এ প্রশ্নে তিনি বলেন, দলীয়ভাবে সমর্থন জানানোর কথা রয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে জানানো হবে।
সন্ধ্যায় ঢাকায় যোগাযোগ করে জানতে চাইলে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী প্রথম আলোকে বলেন, এ বিষয়ে দলীয় কোনো সিদ্ধান্তের কথা তাঁর জানা নেই।
বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে হরতালের প্রতি সমর্থন জানিয়ে তা সফল করার আহ্বান জানিয়েছে।
গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসীন মন্টু এক বিবৃতিতে গ্যাসের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক অভিহিত করে এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন। গ্যাসের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন জাসদের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া ও সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান।

LEAVE A REPLY