ডিমের খোসা কী করেন আপনি? নিশ্চয় ফেলে দেন। এখন থেকে আর ফেলে দেবেন না। ডিমের খোসার অনেক গুণ! যে খোসাকে এতকাল ডাস্টবিনে ছুঁড়ে ফেলেছেন, তা নাকি রূপচর্চার কার্যকরী সামগ্রী!
তবে রূপচর্চার কাজে ব্যবহার করার আগে ডিমের খোসাকে সেই কাজের উপযুক্ত করে তুলতে হবে। তার জন্য রয়েছে ৩ ধাপের প্রস্তুতি-
♦ ডিমের খোসার ভিতরে খুব পাতলা এক অর্ধ-ভেদ্য (সেমি-পার্মিয়াবেল) পর্দা (মেমব্রেন) থাকে। সেটি বের করে নেওয়া দরকার। বেসিনে কল চালিয়ে জলে ভালো করে ধুয়ে নিন ডিমের খোসা। ভালো করে পরিষ্কার করুন ভিতরটাও।
♦ একটি কাচের বাটিতে পরিষ্কার ডিমের খোসা নিন। ভালো করে গুঁড়ো করুন। গ্রাইন্ডারের সাহায্যে গুঁড়ো করতে পারেন।
♦ এবার মাইক্রোওয়েভে ১৫০ ডিগ্রি ফ্যারেনহাইটে ১০-১৫ মিনিট ধরে রাখুন। দেখবেন, গলে পেস্টের মতো হয়ে গেছে।
এবার আসল কাজ। কীভাবে রূপচর্চার কাজে ব্যবহার করবেন ডিমের খোসার গুঁড়ো? অন্তত ৫ পদ্ধতিতে এই গুঁড়ো ব্যবহার করতে পারেন-
♦ ফেসমাস্ক- ডিমের খোসার গুঁড়োকে আরও মিহি করে গুঁড়ো করে নিন। একটি ডিম ফেটিয়ে কুসুম আলাদা করুন। সাদা অংশটির সঙ্গে ডিমের খোসার গুঁড়ো মেশান। ভালো করে ফেটিয়ে নিন। সারা মুখে লাগিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন। শুকিয়ে গেলে পরিষ্কার ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ত্বকের পুষ্টি জোগাতে এই মাস্ক দারুণ কার্যকরী।
♦ অল্পবয়সী লুক পেতে- অনেকের মুখে অল্প বয়সেই বলিরেখা দেখা যায়। ডিম ফাটিয়ে কুসুম আলাদা করে সাদা অংশের সঙ্গে ডিমের খোসার গুঁড়ো মিশিয়ে সারা মুখে লাগান। ভালো করে আঙুল দিয়ে ম্যাসাজ করুন। বলিরেখা উধাও হবে ধীরে ধীরে।
♦ ত্বকের জৌলুস বৃদ্ধি- ডিমের সাদা অংশের সঙ্গে ডিমের খোসার গুঁড়ো মিশিয়ে লাগালে ত্বকের জৌলুস ফিরে আসতে পারেন। আঙুল দিয়ে ৩-৪ মিনিট ম্যাসাজ করুন গোটা মুখ। চকচক করবে ত্বক।

♦ ত্বকের ইরিটেশন মেটায়- কোমল ও সেনসিটিভ ত্বকে ব্রণ, ফুসকুড়ি লেগেই থাকে। সামান্য কারণে ত্বক ফুলে যায়। এই সমস্যা মেটাতে পারে ডিমের খোসার গুঁড়ো। এক বোতল অ্যাপেল সিডার ভিনিগারে ডিমের খোসার গুঁড়ো ভিজিয়ে রাখুন ৪-৫দিন। এরপর সেই মিশ্রণে তুলো ভিজিয়ে নিয়মিত সারা মুখে লাগান। ত্বকের সমস্যা মিটে যাবে।

♦ ঝকঝকে দাঁত- অনেক কারণে দাঁত হলদেটে হয়ে যায়। কালো দাগ হয়। হাসলে দেখতে খারাপ লাগে। কমফ্রে শিকড়ের সঙ্গে ডিমের খোসার গুঁড়ো মিশিয়ে দাঁতে ঘষুন। দাঁতের স্বাভাবিক সাদাভাব ফিরে আসবে। ঝকঝক করবে।

LEAVE A REPLY