ক্রীড়া ডেস্কঃ
প্রায় ৮ বছর পর নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে মূলত বাংলাদেশের সিরিজ উপলক্ষে কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে নিজ গৃহে ফিরেছেন । তবে এত কিছুর পরও প্রতিশোধের ইচ্ছে নেই তার।

এতদিন পর ফেরার কারণ শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড তাকে ২ বছরের জন্য বহিষ্কার করেছিল। হাথুরু তখন অস্ট্রেলিয়াতে। এই নিষেধাজ্ঞার কারণে তিনি আর দেশেই ফিরেননি। অস্ট্রেলিয়াতে বসত গাড়েন। এরপর তিনি এবারই প্রথম ফিরলেন।

নিজ দেশে হাথুরু যখন ফিরলেন তখন ভিন্ন রূপে। খেলোয়াড় হাথুরু যতটা শক্তিশালী ছিলেন কোচ হাথুরু কয়েকগুণ বেশি শক্তিশালী। বাংলাদেশ দলকে ধাপে ধাপে নিয়ে যাচ্ছেন উন্নতির শিখরে। বিশ্বের যে কোনো দলকে দিচ্ছেন হুমকি। এবার নিজ দেশকেও দিচ্ছেন একই হুমকি। নিজ দেশেই হারাতে চান নিজেদের দেশকে।

নিজের দেশের বিপক্ষে টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজ খেলতে নামার আগে বাংলাদেশের কোচ বলেছেন ২০০৯ সালের ওই ঘটনাকে তিনি পেছনে ফেলে এলেও কিছুটা হতাশা এখনো রয়ে গেছে।

তিনি বলেন, ‘আমি সেই ঘটনা পেছনে ফেলে এসেছি। কিন্তু দুঃস্বপ্নটা এখনো পোড়ায় আমাকে। এই ঘটনা আমাকে আরো বেশি পোড়ায় আমি আমার দেশের জন্য কিছু করতে না পারায়। কারণ ২০০৯ সালের ওই ঘটনার পর আমি চলে গিয়েছিলাম। আর ফিরেনি। তবে আমি মনে করি সে সময় আমি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, তা ছিল সঠিক। আমি এতে সন্তুষ্ট।’

২০০৯ সালে সহকারী কোচ হিসেবে লঙ্কান দলের সঙ্গে যুক্ত হন হাথুরু। কোচিং ক্যারিয়ারের উৎকর্ষ সাধনের লক্ষ্যে ওই বছরই লেভেল থ্রি কোচিং কোর্সের জন্য অস্ট্রেলিয়ায় যান তিনি। সমস্যা হলো, তখন জিম্বাবুয়েতে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলতে যাবে শ্রীলঙ্কা। অবশেষে হাথুরু ছুটি চান। দলের ম্যানেজার অনুরা টেনেকুন ও হেড কোচ বেলিসের অনুমতি নিয়েই কলম্বো হয়ে অস্ট্রেলিয়া যাত্রা করেন তিনি।

এই যাত্রাই তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়! দলের খেলার সময় ছুটি নেওয়ায় তার ওপর বেজায় চটে যান তখনকার শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের প্রেসিডেন্ট ডি সি ডি সিলভা। বোর্ড সভাপতির অনুমতি কেন নেওয়া হয়নি- এই মর্মে হাথুরুর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন সভাপতি। এই লঘু কারণে হাথুরুসিংহেকে ২ বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়! তখন অভিমানে অস্ট্রেলিয়ায় নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন হাথুরু। সিরিয়াসলি শুরু করেন কোচিং ক্যারিয়ার।

এই জন্যই নিজ দেশ নিয়ে হাথুরুসিংহের কণ্ঠে অভিমান ঝরলেও জানিয়েছেন অন্য রকম সুখ খুঁজে পাচ্ছেন এই সিরিজে। তিনি বলেন, ‘শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলার সুযোগ হওয়াতে আমি খুশি। যেভাবেই হোক এই সিরিজ আমাকে অন্তত আমার মাতৃভূমিকে দেখার সুযোগ করে দিয়েছে। এখানে আমার অনেক স্মৃতি জড়িত আছে। এখানে আমি বেড়ে উঠেছি। পেয়েছি অনেক সমর্থন, উৎসাহ আর প্রেরণা, যা আমার কাছে এখনো স্মৃতিময়।’

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের কোচ হিসেবে নিয়োগ পান চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। এর কিছু দিন পর ২০১৫ সাল থেকেই শুরু হয় তার কোচিংয়ের সাফল্যযাত্রা

LEAVE A REPLY