লালমনিরহাটে দীর্ঘ ৯ বছর পর মৃত নিকাহ রেজিষ্ট্রারের লাইন্সেস বাতিলের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে তার পরিবারের লোকজন। শুক্রবার সকাল ১১টায় জেলা রেজিষ্ট্রার কার্যালয়ের নিকাহ রেজিষ্ট্রার সমিতির কক্ষে মৃত কাজী সুলতান আহম্মেদের পুত্র ও বর্তমান দুর্গাপুর ইউনিয়নের নিকাহ রেজিষ্ট্রার মাহমুদুল হাসান এ সংবাদ সম্মেলন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মাহমুদুল হাসান বলেন, জেলার আদিতমারী উপজেলার ১নং দুর্গাপুর ইউনিয়নে দীর্ঘ ৯ বছর ধরে নিকাহ রেজিষ্ট্রার হিসেবে দায়িত্বপালন করে আসছি। বর্তমানে আমি জেলা নিকাহ রেজিষ্ট্রার (কাজী) সমিতি’র সদস্য। আমার পিতা মরহুম সুলতান আহম্মেদ নিকাহ রেজিষ্ট্রার হিসেবে দুর্গাপুর ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকাকালীন ২৫ জানুয়ারি ২০০৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর পর জেলা রেজিষ্ট্রারের অফিস আদেশে দুর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের নিকট থেকে তার মৃত্যুর সনদ সংগ্রহ করে এবং ওই ইউনিয়নের নিকাহ রেজিষ্ট্রারের পদটি শুন্য ঘোষনার পর সরকারকে অবগত করা হয়। পরবর্তীতে ২০০৮ সালের মার্চ মাসের ৪ তারিখে তৎকালীন জেলা প্রশাসক মোঃ রফিকুল ইসলাম উক্ত শুন্যপদে নিকাহ রেজিষ্ট্রার হিসেবে আমাকে নিয়োগ দেন। যার স্মারক নং জেএম/০৩-৮১/০৬/০৮/১৮৩/১(৮)। জেলা প্রশাসকের আদেশের প্রেক্ষিতে ওই মাসের ১১ তারিখে জেলা রেজিষ্ট্রার মোঃ আবুল কালাম ইয়াহিয়া নিকাহ রেজিষ্ট্রার হিসেবে লাইসেন্স প্রদান করেন। যার স্মারক নং ১৩৩(৬)। তিনি আরও বলেন, গত ২৪ ফেব্রুয়ারী’১৭ স্থানীয় দুর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের নিকট থেকে হঠাৎ জানতে পারি, ১৪ নভেম্বর ২০০৭ সালে জেলার আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের নিকাহ রেজিষ্ট্রার (কাজী) সুলতান আহম্মেদ এর বিরুদ্ধে আনীত বাল্যবিয়ে রেজিষ্ট্রারী করার অভিযোগে আইন ও বিচার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব জি.এম.নাজমুছ শাহাদাৎ মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) বিধিমালা, ২০০৯ এর বিধি ১১ অনুয়ায়ী সুলতান আহম্মেদ নামীয় নিকাহ রেজিষ্ট্রারের লাইন্সেস বাতিলের আদেশ দেন। সে আদেশের প্রেক্ষিতে জেলা রেজিস্ট্রার সরকার লুৎফর কবীর স্বাক্ষরিত এক আদেশে ওই ইউনিয়নে নিকাহ রেজিষ্ট্রারের পদটি শুন্য ঘোষনা করে মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) বিধিমালা, ২০০৯ এর ১৭(৪) উপবিধি মোতাবেক দুর্গাপুর ইউনিয়নের নিকাহ রেজিষ্ট্রারের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হয় ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের নিকাহ রেজিষ্ট্রার (কাজী) এজাজুল ইসলামকে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, যে ব্যক্তি ২০০৮ সালের ২৫জানুয়ারি মারা যান, সেই ব্যক্তির লাইন্সেস ২০০৯ সালের জারিকৃত আইন অনুয়ায়ী ২০১৬ সালে কিভাবে মৃত ব্যাক্তির লাইসেন্স বাতিল করা হতে পারে ? তা আমার বোধগম্য নয়। আর যেখানে আমি লাইসেন্স প্রাপ্ত নিকাহ রেজিষ্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি এবং নিকাহ রেজিষ্ট্রারের যাবতীয় সরকারী অর্থ সরকারকে প্রদান করছি সেখানে কিভাবে আরেকজনকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হয়। তিনি বলেন, জেলা রেজিষ্ট্রারের দাবীকৃত আর্থিক চাহিদা পুরন না করায়, মন্ত্রনালয়ের কাগজ জাল করে পরিকল্পিতভাবে আমাকে দায়িত্ব থেকে সরানোর পায়তারা করছে। আর তাকে ইন্ধন যুগিয়েছেন তার কাছের কয়েকজন নিকাহ রেজিষ্ট্রার ও জেলা রেজিষ্ট্রি অফিসের কম্পিউটার অপারেটর মনিরুজ্জামান। তিনি তার ওই অবৈধ আদেশের কার্যকরিতা বন্ধে সরকারের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও দূর্নীতিবাজ ওই কর্মকর্তার শাস্তি দাবী জানান। সেই সাথে জেলা রেজিষ্ট্রারের এই আকস্মিক আদেশে তিনি সামাজিক, আর্থিক ও মানুষিকভাবে মারাত্বক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে বলেও জানান।
তবে লালমনিরহাট জেলা রেজিস্ট্রার সরকার লুৎফর কবীর দাবীকৃত আর্থিক চাহিদার কথা অস্বীকার করে বলেন, ২০০৯ এর বিধি ১১ অনুয়ায়ী সুলতান আহম্মেদ নামীয় নিকাহ রেজিষ্ট্রারের লাইন্সেস বাতিলের আদেশ দেয়া হয়েছে। কিন্তু সুলতান আহম্মেদের মৃত্যুর ৯ বছরের মধ্যে কেন বিষয়টি সমাধা করা হলো না এবং কেন এতোদিন পরে একজনের দোষ আরেকজনের উপর দিয়ে তার দায়িত্ব কেড়ে নেয়া হচ্ছে ? এ ব্যাপারে তিনি কোন সদুত্তর দিতে না পারায় বিষয়টি এড়িয়ে যান।

LEAVE A REPLY