কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) শিক্ষক ডরমেটরিতে দূর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার বিকাল ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে কোন এক সময়ে এই চুরির ঘটনা গঠেছে। এঘটনায় শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সদর দক্ষিণ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে চলে আসা দীর্ঘদিনের বির্তকের মধ্যে নতুন করে এ ঘটনায় শঙ্কিত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
জানা যায়, শুক্রবার বিকাল ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে শিক্ষক ডরমেটরি-১ এর ১০১ নং ফ্লাট এবং ৩০২ নং ফ্লাটে এ চুরির ঘটনা ঘটেছে। ১০১ নং ফ্লাটে থাকেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ও পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মো: খলিলুর রহমান এবং ৩০২ নং ফ্লাটে থাকেন রসায়ন বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ আতিকুর রহমান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো: মোশারফ হোসেন ভূঁইয়া জানান, বিকালের দিকে ১০১ ও ৩০২ নং ফ্লাটের শিক্ষকরা বাইরে যান। এসময় ফ্লাটগুলোর তালা অকেজ করে চোর ভিতরে প্রবেশ করে। ১০১ থেকে খলিলুর রহমানের নগদ ১ লক্ষ টাকা ও ১টি ল্যাপটপ এবং ৩০২ থেকে আতিকুর রহমানের নগদ ৪০ হাজার টাকা ও ১টি ল্যাপটপসহ কিছু মূল্যবান জিনিস চুরি হয়। ঘটনা জানার পর ঘটনাস্থলে আসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার এবং কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানা পুলিশ।
চুরির ঘটনায় শুক্রবার রাতে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় মামলা দায়ের করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো: সাদেক হোসেন মজুমদার বাদি হয়ে কোন সংখ্যা উল্লেখ না করে অজ্ঞাত ব্যক্তির নামে এ চুরির মামলা করেন। কুমিল্লার সদর দক্ষিণ মডেল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম মামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
উল্লেখ্য যে, পূর্বেও বিভিন্ন সময় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে ও আশেপাশে ছিনতাই ও চাঁদাবাজির শিকার হন বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যরা। সম্প্রতি গত ২৫ ফেব্রুয়ারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার এলাকায় ছিনতাইয়ের শিকার হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী।
সম্প্রতি শিক্ষক ও শিক্ষর্থীদের দাবি অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন খুবই স্বল্প পরিসরে ক্যাম্পাস অভ্যন্তরের বেশ কয়েকটি পয়েন্টে সিসি ক্যামেরা বসায়। তবে শিক্ষক ডরমেটরি, ছাত্রদের তিনটি আবাসিক হল এবং ছাত্রীদের একটি আবাসিক হল সিসি ক্যামেরার আওতার বাইরে রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্ত ব্যবস্থা নিয়ে বেশ কয়েকজন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বললে তারা এ প্রতিবেদকের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের গা বাঁচানো নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খুবই নাজুক, প্রশাসনের এ নিয়ে কোন মাথা ব্যাথা আছে বলে তো মনে হয় না।’
এর আগে গত ১৭ জানুয়ারি হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও শিক্ষক সমিতির কোষাধক্ষ্য তারিক হোসেনের ভাড়া বাসায় (ক্যাম্পাসের নিকটবর্তী ‘নাজির ভিলা’) দূর্বৃত্তের হামলা হয়। তবে শিক্ষক সমিতির দাবি এটা পরিকল্পিত হামলা। গত ২ ফেব্রুয়ারি নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬১জন শিক্ষক সাধারন ডায়েরি (জিডি) করেন।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োজিত আনসার প্লাটুন কমান্ডার কালা মিয়া জানান, ১৯ জন আনসার ও ২৪ জন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মী পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন, উপাচার্যের বাসভবন ও শিক্ষার্থীদের আবাসিক হলগুলোতে একজন বা দুই জন করে নিরাপত্তকর্মী বা আনসার দায়িত্ব পালন করেন। রাতে একজন আনসার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন নিরাপত্তাকর্মী পুরো ক্যাম্পাস টহল দেন। তবে রাতের টহলের জন্য কমপক্ষে পাঁচ সদস্যের একটি দল প্রয়োজন।
সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো: মজিবুর রহমান মজুমদার বলেন, ‘প্রথম পর্যায়ে ক্যাম্পাসে কিছু সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। কিছু দিনের মধ্যে হল ও ডরমেটরিতে সিসি ক্যামেরা লাগানো হবে। আর নিরাপত্তার জন্য লোকবল বাড়ানো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’

LEAVE A REPLY