একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নিলে বিএনপিসহ ২১টি রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাতিলের ঝুঁকি রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ৯০ অনুচ্ছেদের এইচ (১) ধারায় পরপর দুটি সংসদ নির্বাচনে অংশ না নিলে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাতিলের বিধান রয়েছে।  বিএনপিসহ যে ২১টি রাজনৈতিক দল দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়নি, নিবন্ধন বাঁচাতে একাদশ সংসদ নির্বাচনে তাদের অংশ নিতেই হবে। পর পর দু’টি জাতীয় সংসদ  নির্বাচনে অংশ না নিয়ে  জাতীয় সংসদের একটি উপনির্বাচনে অংশ নিয়ে নিবন্ধন বহালের নজির রয়েছে একটি রাজনৈতিক দলের। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, কোনো রাজনৈতিক দল পরপর দুবার সংসদ নির্বাচনে অংশ না নিলে নিবন্ধন বাতিলের বিধান রয়েছে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী। আমরা চাই সকল রাজনৈতিক দল  জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিক। রাজনৈতিক দলগুলোর আস্থা অর্জনে কাজ করবে ইসি। তবে সাধারণ নির্বাচনে অংশ না নিয়ে পরে যে কোনো উপনির্বাচনে অংশ নিলেও নিবন্ধন থাকবে। এর আগে খেলাফত মজলিস পরপর দুই নির্বাচনে অংশ না নিলেও একটি উপনির্বাচনে অংশ নেয়ায় তাদের নিবন্ধন বহাল আছে। এক্ষেত্রে জাতীয় নির্বাচনে অংশ না নিলেও উপনির্বাচনে অংশ নিয়ে নিবন্ধন বহাল রাখার সুযোগ আছে। এদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ নেবে না দলটি। পরপর দুটি জাতীয় নির্বাচনে অংশ না নিলে নিবন্ধন বাতিলের বিষয়ে জানতে চাইলে  বিএনপির ভাইস প্রেসিডেন্ট মেজর (অব.) মোহাম্মদ হাফিজ উদ্দিন বলেন, এ কমিশনের প্রতি আমাদের কোনো আস্থা নেই। এটি আগের কমিশনের চেয়ে খারাপ হবে। আগামী নির্বাচন কিভাবে হবে তার একটা রূপরেখা আমরা দেবো। এতে সহায়ক সরকার কেমন হবে তার একটি রূপরেখা থাকবে। এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আমরা আলোচনায় বসতে চাই।
যে ২১টি দল নিবন্ধন ঝুঁকিতে: নিবন্ধন ঝুঁকিতে থাকা দলগুলোর মধ্যে আছে, বিএনপি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বিকল্প ধারা বাংলাদেশ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, জাকের পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি, গণফোরাম, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, গ্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল, ঐক্যবদ্ধ নাগরিক আন্দোলন, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (এমএল) ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি।

LEAVE A REPLY