ইস্যুভিত্তিক কর্মসূচি নিয়ে মাঠে থাকতে চাইছে বিএনপি। বিশেষ করে জনসম্পৃক্ত বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে রাজপথে সক্রিয় হওয়ার পরিকল্পনা করছে দলটি। এর অংশ হিসেবে ‘হাতের কাছে পাওয়া’ জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যু সরকারের গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির ঘোষণাকে কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে সারা দেশে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন দলটির নেতাকর্মীরা। শান্তিপূর্ণ এ কর্মসূচি ইতিবাচকভাবে নেন সবাই। এবার জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট এ ইস্যুতে সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করতে রাজধানীর ৩৫ স্পটে লিফলেট বিতরণ করবে বিএনপি।

মহানগর বিএনপির একজন যুগ্ম আহ্বায়ক  জানান, আজ ও রোববার রাজধানীর ৩৫ স্পটে লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় ৩০ নেতা গণসংযোগে নেতৃত্ব দেবেন। তবে এ ধরনের কর্মসূচিতে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে প্রধান অতিথি করে রাজধানী ও আশপাশে বড় ধরনের সমাবেশেরও চিন্তা রয়েছে বিএনপির। ইস্যুভিত্তিক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে রাজপথে নেমে নিরপেক্ষ সরকারের আন্দোলনকে ‘সফল’ পরিণতির দিকে নেয়াই মূল টার্গেট। দলের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির মতো জনগুরুত্বপূর্ণ অন্য ইস্যুভিত্তিক কর্মসূচিতেও দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপস্থিতি প্রত্যাশা করছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। তারা মনে করেন, যে কোনো কর্মসূচিতে খালেদা জিয়া উপস্থিত থাকলে তা জনগণের মাঝে আরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। নেতাকর্মীরাও চাঙ্গা হবেন। গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচিতে চেয়ারপারসন উপস্থিত থাকলে অনুষ্ঠানের গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে যেত। তাই এ মুহূর্তে মাঠের রাজনীতিতে জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মসূচিতে চেয়ারপারসনের অবশ্যই যোগ দেয়া উচিত বলে তারা মত দিয়েছেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এ মুহূর্তে কঠোর আন্দোলনে গেলে দল আরও বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে। সাধারণ মানুষও তা ভালোভাবে নেবে না। তাই আন্দোলনের কৌশল পরিবর্তন করা হচ্ছে। হাতের কাছে পাওয়া গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণার প্রতিবাদে কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণকে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি নেতাকর্মীদের মধ্যেও গতি আসছে। একই সঙ্গে দল পুনর্গঠন প্রক্রিয়াও শেষ করা সম্ভব হবে। তাই এ মুহূর্তে কঠোর কোনো কর্মসূচি দেয়ার চিন্তা নেই বিএনপির।

ঢাকা মহানগর বিএনপির উদ্যোগে আজ ও রোববার রাজধানীর ৩৫ স্থানে গণসংযোগে কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থেকে সব শ্রেণীপেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলবেন। গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধিসহ সরকারের জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে লিফলেট বিতরণ করবেন তারা। দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, ভাইস চেয়ারম্যান, যুগ্ম মহাসচিবরা লিফলেট বিতরণের পাশাপাশি জনসংযোগ করবেন। এরই মধ্যে ৩০ নেতার একটি তালিকা তৈরি করে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে।

কর্মসূচির বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী আবুল বাশার  বলেন, এ কর্মসূচি সার্বিকভাবে দেখভাল করবে ঢাকা মহানগর বিএনপি। সেভাবেই আমাদের প্রস্তুতি নিয়েছি। তবে দলের এক নেতা বলেন, যেসব কেন্দ্রীয় নেতা এ দু’দিনের কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারবেন না, তারা পুলিশি হয়রানি এড়িয়ে সুবিধাজনক সময়েও এ কর্মসূচি পালন করতে পারবেন।

দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির মতো যে কোনো জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পথসভা, গণসংযোগ, লিফলেট বিতরণের কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। এক্ষেত্রে যদি সরকার কর্মসূচি পালনে বাধাও দেয়, তাতে রাজনৈতিকভাবে বিএনপিরই লাভ হবে। বাধা দিলে ভোটের মাধ্যমে জনগণ ক্ষমতাসীনদের এর জবাব দেবে।

অন্যদিকে কর্মসূচি সঠিকভাবে করতে দেয়া হলে বিএনপির প্রতি জনগণের আস্থা আরও বাড়বে। পাশাপাশি নেতাকর্মীরাও সক্রিয় হয়ে উঠবেন। যার ইতিবাচক ফল আসবে। নির্বাচনের আগ পর্যন্ত এভাবে কর্মসূচি চালিয়ে গেলে জনগণের মধ্যে বিএনপির গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়বে। একসময় সরকার বিএনপির নিরপেক্ষ সরকারের দাবি মেনে নিতে বাধ্য হতে পারে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, খালেদা জিয়া ও বিএনপির নেতৃত্বে আমরা রাস্তায় নেমে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সব দলের অংশগ্রহণের নির্বাচন আদায় করব, ইনশাআল্লাহ।

গত বছরের ৫ জানুয়ারি সর্বশেষ রাজপথে জনসভা করতে পেরেছিল বিএনপি। এরপর দলটিকে রাজপথে আর কোনো কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায়নি। দলটির নেতাদের অভিযোগ, উদ্যোগ নিলেও পুলিশের অনুমতি না মেলায় মূলত তারা রাজপথে কোনো কর্মসূচি পালন করতে পারেননি। এ অবস্থায় দলের নয়াপল্টন, গুলশান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন বা প্রেস ক্লাব, ডিআরইউ, রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের চার দেয়ালের মধ্যেই নানা ইস্যুতে কর্মসূচি পালন করতে হয়েছে।

অবশ্য এ কারণে দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের নানা সমালোচনার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। সম্প্রতি বিএনপির একাধিক আলোচনা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বিএনপিকে পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, ‘সংবাদ সম্মেলন আর প্রেস বিজ্ঞপ্তি না দিয়ে রাজধানীর ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে গিয়ে এলাকার সাধারণ মানুষ ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করুন।’

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়  বলেন, আমরা অনেক দিন ধরে ঘরে বসে কথা বলেছি। বৃহস্পতিবার ঘর ছেড়ে রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশনের আঙিনায় কর্মসূচি পালন করেছি। এখন রাজপথেও মিছিল করতে পারি। জনগণের স্বার্থে আর ঘরে নয়, এবার রাজপথে নামব। এ লক্ষ্যে সামনে বড় কর্মসূচি আসবে। সে কর্মসূচি যদি বাধার সম্মুখীন হয়, তা অতিক্রম করতে কঠিন ও কঠোর কর্মসূচিও আসতে পারে।

LEAVE A REPLY