ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০তম সমাবর্তন আজ। শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের খেলার মাঠে সমাবর্তনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে। সমাবর্তন সুষ্ঠুভাবে পালনের জন্য ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। সমাবর্তনকে ঘিরে ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। সমাবর্তনে অংশ নেয়া গ্রাজুয়েটরা ইতোমধ্যে খেলার মাঠে আসতে শুরু করেছেন।

জানা গেছে, এবারের সমাবর্তনে ১৭ হাজার ৮৭৫ জন স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীকে সনদ দেওয়া হবে। এ ছাড়া ৮০ জনকে ৯৪টি স্বর্ণপদক, ৬১ জনকে পিএইচডি ও ৪৩ জনকে এমফিল ডিগ্রি দেওয়া হবে।

সমাবর্তনে সভাপতিত্ব করবেন রাষ্ট্রপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর মো. আবদুল হামিদ। সমাবর্তন বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টার্ন অন্টারিও-এর প্রেসিডেন্ট এবং ভিসি অধ্যাপক অমিত চাকমা। সমাবর্তনে তাঁকে সম্মানসূচক ডক্টর অব সায়েন্স ডিগ্রি দেওয়া হবে।

এর আগে বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে চ্যান্সেলরের শোভাযাত্রার মাধ্যমে সমাবর্তনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। দুপুর ১টায় চ্যান্সেলরের প্রস্থানের মাধ্যমে সমাবর্তনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে। সমাবর্তন অনুষ্ঠানে মোবাইল ফোন, হাতব্যাগ, ক্যামেরা, পানির বোতল নিয়ে প্রবেশ করা যাবে না বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

গ্র্যাজুয়েটদের অংশগ্রহণে শুক্রবার বিকালে অনুষ্ঠিত হয়েছে সমাবর্তন মহড়া।

ঢাবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, সমাবর্তনের দিনটি শিক্ষার্থীদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন। এই দিনটির জন্য তারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন। সমাবর্তন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তারা একাডেমিক সার্টিফিকেট ও পদক গ্রহণ করে থাকেন। অথচ স্বাধীনতা পূর্ব ও উত্তরকালে দীর্ঘদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠান বন্ধ ছিল। বর্তমানে আবার বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবর্তন অনুষ্ঠানের সংস্কৃতি চালু হয়েছে। এই সংস্কৃতি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সমাবর্তন অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে সফল করতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন ঢাবি উপাচার্য।

সমাবর্তনে অংশ নিতে আসা গ্রাজুয়েটরা ইতোমধ্যে খেলার মাঠে আসতে শুরু করেছেন। সমাবর্তন উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে দেয়া গাউন, ক্যাপ ও সমাবর্তন ব্যাগ নিয়ে তারা মাঠে প্রবেশ করছেন। প্রিয় বন্ধুদের কাছে পেয়ে তাদের একে অপরকে জড়িয়ে ধরছেন। অনেকে সমাবর্তনের ক্যাপ আকাশে ছুড়ে দিয়ে বাঁধভাঙা উল্লাসে মেতে উঠছেন।

গ্র্যাজুয়েটদের অনেকে এই স্মৃতিকে ধরে রাখতে মা-বাবাকে সঙ্গে নিয়ে এসেছেন। সন্তানদের মতো তাদেরকেও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা গেছে। সবমিলিয়ে ঢাবির খেলার মাঠ এলাকায় অন্যরকম এক উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।

LEAVE A REPLY