দীর্ঘমেয়াদি মেরামত প্রক্রিয়ার কবলে পড়েছে সিইউএফএল। মেয়াদোত্তীর্ণ রি-অ্যাক্টর মেশিন বিপুল পরিমাণ টাকা ব্যয় করে মেরামত করার পরো ইউরিয়া উত্পাদন করা যাচ্ছে না। পুনরায় রি-অ্যাক্টরে ত্রুটি দেখা দিয়েছে। ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন করে একটি রি-অ্যাক্টর মেশিন ক্রয়ের উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এই প্রক্রিয়া শেষ করতে সময় লাগবে প্রায় দুই বছর। আপাতত অ্যামোনিয়া ইউনিটে উত্পাদন চালু রাখা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, যান্ত্রিক ত্রুটি দেখতে ইতালি থেকে ঠিকাদারের লোক এসেছে। তবে সৃষ্ট ত্রুটি মেরামতে সফলতা নিয়ে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।

বর্তমানে সিইউএফএলের মেরামত প্রক্রিয়া তদারকি করছেন বিসিআইসির এক শীর্ষ কর্মকর্তা। জানতে চাইলে বিসিআইসির পরিচালক (কারিগরি ও প্রকৌশল) আলী আক্কাছ ‘ইত্তেফাক’কে বলেন, ‘বর্তমান ইউরিয়া রি-অ্যাক্টর মেশিন নিয়ে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু এই কারখানার প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। তাই আমরা নতুন একটি ইউরিয়া রি-অ্যাক্টর মেশিন ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। অ্যামোনিয়া ইউনিট চালু রাখা হবে। উত্পাদিত অ্যামুনিয়া ডিএপি ও বিদ্যুত্ কারখানায় বিক্রি করে সিইউএফএলের বেতন-ভাতা মেটানো হবে। দৈনিক এক হাজার টন অ্যামোনিয়া উত্পাদনের সক্ষমতায় নির্মাণ করা হলেও বর্তমানে উত্পাদন ক্ষমতা হ্রাস পেয়ে দৈনিক ৫০০ থেকে ৬০০ টনে নেমে এসেছে।’

সম্প্রতি প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে কারখানার সিইউএফএলের রি-অ্যাক্টর ও কুলিং টাওয়ার মেরামত করা হয়। গ্যাস সংকট ও মেরামত কাজের জন্য দীর্ঘ দুই বছর বন্ধ থাকার পর কারখানাটি চালুর প্রক্রিয়া শুরু করে কর্তৃপক্ষ। গত ১৯ জানুয়ারি উত্পাদন প্রক্রিয়া শুরু করে কর্তৃপক্ষ। গত ১০ ফেব্রুয়ারি ইউরিয়া উত্পাদন শুরু করার মুহূর্তে রি-অ্যাক্টর মেশিনে লিকেজ ধরা পড়ে। সাথে সাথে উত্পাদন বন্ধ করে দেয়া হয়। ইতোমধ্যে কারখানায় উত্পাদন প্রক্রিয়া শুরু করতে গিয়ে গ্যাস বাবদ প্রতিষ্ঠানের প্রায় ছয় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানান।

১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত কারখানার বিভিন্ন যন্ত্রাংশ প্রায় দশ বছর আগে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে। এতদিন জোড়াতালি দিয়ে চালু রাখা হয়েছে। তবে কারখানাটি টিকিয়ে রাখতে হলে নতুন একটি রি-অ্যাক্টর মেশিন কিনতে হবে। কারখানা পরিচালনার সাথে সংশ্লিষ্টরা দীর্ঘদিন যাবত্ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে এই দাবি করে আসছিলেন। তাদের কথার গুরুত্ব দেয়া হয়নি। এখন প্রায় ২৪ কোটি টাকা খরচ করে মেরামতের পর পুনরায় রি-অ্যাক্টর মেশিন কাজ না করায় লোকসানের দায় কার, তা নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আলোচনা চলছে। এমনিতে দীর্ঘদিন যাবত্ সার কারখানাটি লোকসান দিয়ে চলছে।

বোরো মৌসুম শুরু হওয়ায় সারের চাহিদা মেটাতে ইউরিয়া উত্পাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে চট্টগ্রামে গ্যাসনির্ভর বিদ্যুেকন্দ্রগুলোতে উত্পাদন বন্ধ করে দেয়া হয়। সিইউএফএলে গ্যাসের মাধ্যমে সার উত্পাদনের ফলে খরচ অনেক কম পড়ে।

LEAVE A REPLY