সকাল সাতটা। বিএফডিসিতে একে একে হাজির হন সিনে-তারকারা ও তাদের পরিবার। এসেই এর ওর সঙ্গে খোশগল্পে মেতে উঠলেন। এখনও কে আসেনি তার খোঁজও নেয়া চলে। তারকাদের সবার মনেই উৎসবের আমেজ। কেননা, গতকাল চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ব্যানারে পিকনিকের আয়োজন করা হয়েছিল। পিকনিকের ভেন্যু ঠিক হয় ঢাকার অদূরে আশুলিয়ার বিরুলিয়া বেড়িবাঁধের প্রিয়াংকা শুটিং হাউজে। একসঙ্গে সবাই পিকনিকে যাবেন বলে হাজির হয়েছিলেন এফডিসিতে।

সময় গড়িয়ে যায়। কিন্তু পিকনিকের গাড়ির হদিস নেই। একসময় ধৈর্য্যের বাধ ভেঙ্গে যায়। মনে দেখা দেয় সংশয়। আদৌ গাড়ি আসবে তো? এরি মাঝে গুঞ্জন ওঠে এই যে বাস এলো বলে। সবাই ইতিউতি করে বাসের খোঁজে যায়। কিন্তু বাসের দেখা মেলে না। বেলা বাড়তে থাকে। পিকনিকে যারা যাবেন বলে ঠিক করছেন তাদের মন খারাপের পাল্লাটা ভারী হতে থাকে। শিশুরা অসহিষ্ণু হয়ে ওঠে। কেউ কেউ ক্ষুধা সহ্য করতে না পেরে বিস্কুট কিনে খায়। আবার পানির অভাবেও এদিক সেদিক ছুটতে দেখা যায় অনেককে। কারণ এতো সকালে কেউই নাস্তা করে আসেননি।

সকাল সোয়া ১০টায় ভেন্যুর দিকে রওয়ানা হয় বনভোজনের গাড়ি। গাড়ীর সিট স্বল্পতার কারণে অনেকেই বাসে দাঁড়িয়েই থাকেন। সাড়ে ১১টায় বাস গিয়ে পৌছায় উৎসব স্থলে। বাস থেকে হুড়মুড়িয়ে সবাই নেমে পড়েন।

কিন্তু সেখানে গিয়েও বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। কেননা, সবার ভাগ্যে নাস্তা জোটে না। এদিকে অনেক তারকা পিকনিকের বাসে না এসে নিজেদের ব্যক্তিগত গাড়িতে আসবেন বলে কথা ছিল। কিন্তু তাদেরও দেখা মেলে না। অনেকেই তখনও আসেননি।

দুপুরে আসেন নায়ক শাকিব খান। তিনি মেয়াদ শেষ হওয়া বর্তমান চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির  সভাপতি। সে এসেই স্টেজে ওঠেন। বলেন, ‘মাত্রতো সবাই নাস্তা করলাম। এবার হবে মৌজ মাস্তি। শুধু মাস্তি আর মাস্তি।’ এতে উপস্থিত শিল্পীদের পরিবারের বিভিন্ন সদস্যগণ উল্লাসে হাততালি দিয়ে উঠেন। কিন্তু শাকিব খান স্টেজ থেকে নামতেই সবাই দুপুরের খাবার যেখানে পরিবেশন করা হচ্ছে সেখানে গিয়ে হাজির হন। এর কারণ আছে। সূর্য মধ্যগগনে। পেট করছে চো চো। দুপুরে পরিবেশন করা হয় পোলাও, মুরগির রোস্ট এবং রেজালা। সঙ্গে ছিল জর্দা।

গতকালের বনভোজনে উপস্থিত ছিলেন, মৌসুমী, আমিন খান, রুবেল, ফেরদৌস, মিশা সওদাগর, সাইমন, জায়েদ খান, বুবলী, মিষ্টি জান্নাত, অমৃতা প্রমুখ। সিনিয়র শিল্পীদের মধ্যে উপস্থিত হয়েছিলেন সোহেল রানা, ফারুক, আলমগীর, জাভেদ, আহমেদ শরীফ, অরুণা বিশ্বাস প্রমুখ।

শাকিব-অমিত কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই এই কমিটি প্রতিশ্রুতিমাফিক এই বনভোজনটির আয়োজন করেছিলো। যেখানে এবারই প্রথমবারের মতো শিল্পীদের পরিবারসহ দাওয়াত দেয়া হয়। মূলত বড় পরিসরে আয়োজন করতেই এমন পরিকল্পনা।

অমিত হাসান বলেন, ‘আমাদের একটি অঙ্গীকার ছিলো যে, কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই আমরা একটি বনভোজনের আয়োজন করবো। এত বড়ভাবে শিল্পীদের পরিবার নিয়ে বনভোজনের আয়োজন করতে পেরে আমি সত্যিই আনন্দিত।

শিল্পী সমিতির সহ০সভাপতি ওমরসানি বলেন, ‘আমি এই বনভোজনের উদযাপন কমিটির আহবায়ক। আমার ডাকে সবাই সাড়া দিয়ে এমন একটি সফল বনভোজন অনেকেই অংশ নিয়েছেন। এজন্য আমি সত্যিই সবার কাছে কৃতজ্ঞ।’

দুপুরের পর অনুষ্ঠানে চিত্রনায়ক আলমগীর ‘আছেন আমার ব্যারিস্টার’ গান গেয়ে মঞ্চ মাতান।তারপর গান পরিবেশন করেন মৌসুমী। তিনি ‘ফাগুনের দিন শেষ হবে একদিন’ গানটি কণ্ঠে ধারণ করেন। এছাড়া সাইমন, ফেরদৌস অনেকেই গানের তালে নেচে সবাইকে মুগ্ধ করেন।

সূর্য আস্তে আস্তে পশ্চিমের দিকে হেলে পড়তে থাকে। আস্তে আস্তে বনভোজন স্পট থেকে সবাই বাসার পথ ধরেন।

LEAVE A REPLY