ভোলা জেলা সদরের পৌর এলাকায় প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ঐতিহ্যবাহী ভোলাখালসহ ৪টি খাল পুনঃখনন করা হবে। ভোলা পৌরসভার উদ্যোগে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় খালগুলোর পাড় সংরক্ষণ, সড়কবাতি স্থাপন, দখলরোধে উভয় পাড়ে ওয়াকওয়ে নির্মাণ ও নাব্যতা ফিরিয়ে আনা হবে। এর মাধ্যমে এখানকার পরিবেশ উন্নয়ন, প্রতিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

ভোলা পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জসিমউদ্দিন আরজু  বলেন, ভোলা খাল, আন্দির খাল, আলীনগর খাল, বালিয়াকান্দি এই ৪টি খালকে পুনরুজ্জীবিত করা হবে। ইতোমধ্যে জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডের মাধ্যমে ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ এসেছে। যার মাধ্যমে ভোলা খালের বাংলা স্কুল ব্রিজ থেকে টাউন স্কুল ব্রিজ পর্যন্ত খালের পশ্চিম অংশের রাস্তা নির্মাণ সড়ক বাতি স্থাপন ও পার সংরক্ষণের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। পরবর্তিতে অন্যান্য খালগুলোরও পাড় সংরক্ষণ ও পুনঃখনন করা হবে।

পৌরসভা সূত্র জানায়, একসময়ে নদী হিসাবে পরিচিতি থাকলেও বর্তমানে খালগুলো মৃতপ্রায়। এসব খালে একসময় বড় বড় পালতোলা নৌকা চলত। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা নৌকায় করে তাদের বিভিন্ন পণ্য আনা-নেওয়া করতেন। বহু জেলে এখানে মাছ ধরে তাদের জিবীকা নির্বাহ করতেন। কৃষি কাজে এসব খালের পানি ব্যবহার করা হতো। কিন্তু বর্তমানে দখলদারদের কারণে খালগুলো ক্রমশই সংকুচিত হয়ে নর্দমায় পরিণত হয়েছে। এতে পরিবেশ দূষনসহ নানান সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদে খালগুলো দখলদারমুক্ত করে পুনঃখননের নির্দেশ দেন। মন্ত্রীর নির্দেশের পরপরই পৌরসভা, জেলা প্রশাসন ও ভূমি অফিস যৌথভাবে খালের সীমানা চিহ্নিত করে দখলমুক্ত করা কার্যক্রম শুরু করে। খুব শিগ্রই খালগুলোর হারানো সৌন্দর্য ফিরিয়ে এনে পরিবেশ উন্নয়ন ও সৌন্দর্য বর্ধন নিশ্চিত করা হবে বলে সূত্র জানায়।

এদিকে ভোলাখালসহ ৪টি খাল সংস্কারের খবরে আনন্দিত ভোলাবাসী। এর মাধ্যমে ভোলার জনগণের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হচ্ছে। খালগগুলো পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসলে ব্যবসা-বানিজ্যের সমৃদ্ধি, কৃষি কাজের প্রসার, স্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসন ও পরিবেশ সুরক্ষায় কাজ দেবে।

প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক সামসুল আলম মিঠু বাসস’কে বলেন, যে কোন শহরের ইতিহাস গড়ে উঠে কোন না কোন নদী, খাল ইত্যাদিকে কেন্দ্র করে। কোন জনপদ অথবা নগরের প্রাণ হচ্ছে তার মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া জলধারা অথবা খাল। তাই ভোলা খালসহ ৪টি খাল পুনঃখনন করা গেলে টেকসই শহর রক্ষা ও সৌন্দর্য বর্ধন নিশ্চিত করা যাবে। পাশাপাশি প্রায় শত বছরের পুরানো এই শহরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য রক্ষা করা যাবে বলে তিনি মনে করেন।
সূত্র:বাসস

LEAVE A REPLY