মেহেরপুর সদর উপজেলার সোনাপুর গ্রামের দুজন ব্যবসায়ীকে অপহরণের পর গলা কেটে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। গত রোববার রাতে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর গতকাল সোমবার দুপুরে পার্শ্ববর্তী কাঁঠালপোতা গ্রামের মাঠ থেকে তাঁদের গলা কাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ ও গ্রামবাসীর ধারণা, গত ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের বিরোধকে কেন্দ্র করে জোড়া হত্যাকাণ্ডের এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। নিহত ব্যক্তিদের দুজনই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সমর্থক।
নিহত দুই ব্যবসায়ী হলেন সোনাপুর গ্রামের আবদুল জলিলের ছেলে কাঠ ব্যবসায়ী আবদুল মজিদ (৫৫) ও তাফসুদ্দিনের ছেলে পোলট্রি ব্যবসায়ী আসাদুল ইসলাম (৫০)। দুজনের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এদিকে এ ঘটনার পর গ্রামবাসীদের মনে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তি সূত্রে জানা যায়, রোববার রাতে সোনাপুর গ্রামের মোড়ে একটি চায়ের দোকানে কয়েকজনের সঙ্গে বসে ছিলেন মজিদ ও আসাদুল। সাড়ে ১০টার দিকে ১০-১২ জন সন্ত্রাসী অস্ত্রের মুখে সেখান থেকে তাঁদের তুলে নিয়ে যায়। পরে গতকাল দুপুর ১২টার দিকে কয়েকজন কৃষক কাঁঠালপোতা গ্রামের মাঠে একটি তামাকখেতের ভেতরে গলা কাটা দুটি লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। সদর থানা-পুলিশ সুরতহাল শেষে লাশ দুটি মর্গে পাঠায়।
আবদুল মজিদের ছেলে আব্বাস আলী বলেন, গত রোববার রাত ১১টার দিকে তাঁর বাবার মুঠোফোন নম্বর থেকে ফোন করে এক ব্যক্তি তাঁদের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা না দিলে হত্যার হুমকি দেন। অপহরণকারীদের সঙ্গে টাকার পরিমাণ কমানো নিয়ে ফোনে দেনদরবার করা হলেও তারা সমঝোতায় আসতে চাননি। সমঝোতার চেষ্টা চালানোর কারণে পুলিশকেও বিষয়টি জানানো হয়নি। তিনি আরও বলেন, এলাকায় তাঁর বাবার সঙ্গে কারও বিরোধ ছিল কি না, তা জানা নেই।
এদিকে আসাদুল ইসলামের ছোট ভাই আশরাফুল ইসলামও মুঠোফোনে চাঁদা চাওয়ার কথা জানান।
কয়েকজন গ্রামবাসী বলেন, আবদুল মজিদ এলাকায় কাঠের ব্যবসা করতেন। আসাদুল ইসলাম ছিলেন পোলট্রি ব্যবসায়ী। দুজনই আওয়ামী লীগের সমর্থক। গত বছর ইউপি নির্বাচনে তাঁরা সোনাপুর গ্রামের বাসিন্দা ও পিরোজপুর ইউপির ওয়ার্ড সদস্য আরজান আলীর পক্ষে কাজ করেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সাবেক সদস্য মামলত হোসেন। নির্বাচনে আরজান আলীর কাছে পরাজিত হন মামলত। আরজানের পক্ষ নেওয়ায় মজিদ ও আসাদুলের সঙ্গে মামলতের বিরোধ দেখা দেয়।
ইউপি সদস্য আরজান আলী বলেন, নির্বাচনে মজিদ ও আসাদুল তাঁর পক্ষে ছিলেন। এ নিয়ে মামলত হোসেন ক্ষুব্ধ থাকতে পারেন।
জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও পিরোজপুর ইউপির চেয়ারম্যান আবদুস সামাদ বলেন, নিহত দুজনই আওয়ামী লীগের সমর্থক। দুজনই আরজান আলীর কর্মী ছিলেন। এ নিয়ে মামলত আলীর সঙ্গে তাঁদের বিরোধ ছিল। এই বিরোধ থেকে নৃশংসভাবে তাঁদের হত্যা করা হতে পারে।
মেহেরপুরের পুলিশ সুপার আনিছুর রহমান গতকাল বিকেলে বলেন, এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলে কিছু তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গ্রাম্য বিরোধ। আশা করা হচ্ছে, কিছুদিনের মধ্যে রহস্য উদ্ঘাটন করা যাবে। পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে।
খুনের ঘটনায় মামলত হোসেনকে গোয়েন্দা পুলিশ আটক করেছে বলে তাঁর স্ত্রী বেলী খাতুন দাবি করেছেন। তিনি বলেন, মামলত ফোন করে জানিয়েছেন যে গোয়েন্দা পুলিশ মেহেরপুর আদালত এলাকা থেকে তাঁকে আটক করেছে। এরপর থেকে তাঁর মুঠোফোন বন্ধ রয়েছে।
তবে মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার চৌধুরী বলেন, এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি। আর খুনের ঘটনায় মামলা দায়েরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।

LEAVE A REPLY