শিশুরা নিজের আঙুল মুখে দেয়। বিশেষত, বুড়ো আঙুল অথবা মজা পায় এমন অনেক কিছুই (যেমন খেলনাজাতীয় জিনিস) তারা চুষতে শুরু করে। এভাবে তারা নিজস্ব জগৎটাকে চিনতে চায়, আবার নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে ভেবে আনন্দ পায়। ছোট শিশুরা অনেক সময় শান্ত হওয়ার জন্য নিজের আঙুল চোষে। অনেক সময় এটি করতে করতে ঘুমিয়ে পড়ে।
দীর্ঘদিন এমন অভ্যাসে কোনো জটিলতা হতে পারে?
হ্যাঁ, যখন দুধদাঁত পড়ে যায় এবং ওই স্থানে স্থায়ী দাঁত গজাতে শুরু করে, তখন আঙুল চোষার অভ্যাসের ফলে মুখের আকৃতি ও দাঁতের স্বাভাবিক অবস্থান বিকৃত হয় এবং ওপরের সামনের পাটির দাঁত উঁচু হয়ে যায়। যেসব শিশু আঙুল দাঁতের ওপর চাপ দিয়ে রেখে খুব জোরে জোরে দীর্ঘক্ষণ চোষে, তাদের এমন ক্ষতি বেশি হয়।
কখন আঙুল চোষা বন্ধ করতে হবে?
যখন শিশুর দুধদাঁত পড়ে গিয়ে সামনের স্থায়ী দাঁত উঠতে শুরু করে, তখন আঙুল বা অন্য কোনো বস্তু চোষা বন্ধ করা প্রয়োজন। সাধারণত শিশুরা দুই থেকে চার বছর বয়সের মধ্যেই এই চোষার অভ্যাস বন্ধ করে দেয়। না করলে ব্যবস্থা নিতে হবে। আঙুল ছাড়া অন্যান্য বস্তু যেমন চুষনি, পেনসিল, খেলার সরঞ্জাম ইত্যাদি চোষাও সমান ক্ষতিকর।
কীভাবে শিশুর এই অভ্যাস ছাড়ানো যায়?
* চার বছরের বেশি বয়সী শিশুকে বুঝিয়ে বলুন এবং অন্য কিছু দিয়ে ব্যস্ত রাখতে চেষ্টা করুন। যেমন খেলনা, বই, আঁকাআঁকি, গল্প বলা অথবা গান গাওয়ানোর চেষ্টা।
* শিশুরা আঙুল বা অন্য কিছু চোষে যখন তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। তাই চেষ্টা করুন তাদের দুশ্চিন্তা দূর করতে।
* বাবা-মা যদি শিশুদের একটু বেশি সময় দিয়ে অধিক আনন্দ জোগাতে পারেন, সুফল মিলবে।
* রাতে ঘুমানোর আগে শিশুর হাত বা আঙুলগুলো একটি নতুন মোজা বা কাপড় দিয়ে মুড়িয়ে দিতে পারেন। কোনো তেতো খাবার (যেমন নিম পাতা অথবা করলার রস, যা ক্ষতিকর নয়) হাতের আঙুলগুলোতে মাখিয়ে রাখলেও ফল পাওয়া যায়। মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, দন্ত চিকিৎসক কিংবা শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে পারেন।

LEAVE A REPLY