সোনা চোরাচালানের মামলায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ট্রাফিক হেলপার কে এম নুরুদ্দীনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। আজ বুধবার দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ মো. শাহেনূরের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন নুরুদ্দীন। শুনানি শেষে আদালত তাঁর জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আইনজীবী কাজী সানোয়ার হোসেন বলেন, নগরের পতেঙ্গা থানার একটি সোনা চোরাচালান মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন নুরুদ্দীন। এই মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে দুদক অভিযোগপত্র দেওয়ায় জামিন নামঞ্জুরের আবেদন করা হয়।

দুদক সূত্র জানায়, ২০১৩ সালের ১ নভেম্বর বোয়ালখালীর পূর্ব গোমদণ্ডী গ্রামের আলাউদ্দিন চৌধুরী একটি ফ্লাইটে দুবাই থেকে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসেন। সেদিন তিনি সঙ্গে থাকা দুটি লাগেজ বিমানবন্দরে ফেলে যান। পরদিন বিমানবন্দরের সংশ্লিষ্ট শাখায় এসে লাগেজ দুটি ছাড়িয়ে নেন আলাউদ্দিন। ওই সময় বিমানবন্দরে লাগেজ দুটি স্ক্যান করে ২৫টি সোনার বার পাওয়া যায়। ওই ঘটনায় সেদিন কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় কোনো মামলাও হয়নি।

দুদক সূত্র জানায়, বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর দুদক অনুসন্ধান শুরু করে। পরের বছর ৩১ ডিসেম্বর নুরুদ্দীন, আনিসুর রহমানসহ তিনজনকে আসামি করে পতেঙ্গা থানায় চোরাচালান আইনে মামলা করে দুদক। দুই বছর তদন্ত শেষে গত ৪ জানুয়ারি আদালতে সাতজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন দুদকের চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক এইচ এম আক্তারুজ্জামান। আসামিরা হলেন চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপকের তৎকালীন ব্যক্তিগত সহকারী মোমেন মোকসেদ, আনিসুর রহমান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ট্রাফিক হেলপার কে এম নুরুদ্দীন, আনসার সদস্য মো. মাহফুজার রহমান, মো. শাহীন মিয়া ও মো. ইলিয়াছ উদ্দিন এবং চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর বাসিন্দা মো. আলাউদ্দিন চৌধুরী। আসামিদের মধ্যে প্রথম ছয়জন ঘটনার সময় শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কর্মরত ছিলেন।

LEAVE A REPLY