কিছুদিন আগেও ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ওজনের নারী। তবে চিকিৎসার জন্য ভারতের মুম্বাই আসার তিন সপ্তাহ পর সেই তকমা মুছে গেছে। এই কয়েক দিনেই ইমান আহমেদের ওজন কমেছে ১০৮ কেজি। তাঁর এখনকার ওজন দাঁড়িয়েছে ৩৮০ কেজিতে।
চিকিৎসার পর গত ২৫ বছরের মধ্যে এই প্রথমবার নিজে নিজে বসতে পেরেছেন ইমান। এখন তিনি যেন উঠে দাঁড়াতে পারেন, সেই লক্ষ্যে কাজ করছেন চিকিৎসকেরা। অস্ত্রোপচারের জন্য এখন পুরোপুরি তৈরি ইমান।
মুম্বাইয়ের চিকিৎসকেরা প্রথম ২৫ দিনে ৫০ কেজি ওজন কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন। সেই হিসাবে প্রতিদিন দুই কেজি করে ওজন কমানোর কথা ছিল তাঁর। তবে সবাইকে অবাক করে দিয়ে লক্ষ্যের চেয়ে দ্বিগুণ ওজন কমিয়েছেন ইমান। তাঁর চিকিৎসক শল্যবিদ মুফাজ্জল লাকড়াওয়ালা বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম ৫০ কেজি কমাতে পারবেন তিনি। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে ১০০ কেজিরও বেশি ওজন কমিয়েছেন তিনি।’
দেহে থাকা জলীয় উপাদান ঝরিয়েই ১০০ কেজির মতো ওজন কমিয়েছেন ইমান। তরল ডায়েট অনুসরণ করে এবং নিয়মিত ফিজিওথেরাপি নিয়ে অতিরিক্ত পানি কমিয়েছেন তিনি। এর ফলে ব্যারিয়াট্রিক শল্যচিকিৎসার উপযুক্ত হয়ে উঠেছেন ইমান। যে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পাকস্থলী ও ক্ষুদ্রান্ত্রের কিছু অংশ বাদ দিয়ে দেহের ওজন কমিয়ে আনা হয়, তা-ই ব্যারিয়াট্রিক শল্যচিকিৎসা।
চিকিৎসক মুফাজ্জল জানান, শিগগিরই ইমানের শরীরে অস্ত্রোপচার করা হবে। তিনি বলেন, ‘ওষুধ দিয়ে তাঁর ওজন আর কমানো সম্ভব নয়। এখন অস্ত্রোপচার করতে হবে।’
প্রথম দফা অস্ত্রোপচারের পর মিসরীয় নাগরিক ইমানকে সে দেশের আলেক্সান্দ্রিয়া শহরে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। পরবর্তী চিকিৎসার আগ পর্যন্ত সেখানেই তাঁকে পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। ইমানের চিকিৎসার জন্য এরই মধ্যে ৬০ লাখ রুপি সংগ্রহ করেছে মুম্বাইয়ের ওই হাসপাতাল।

LEAVE A REPLY