জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় অর্থের উৎস সম্পর্কিত অংশ পুনঃতদন্তের জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আবেদন খারিজ করে দিয়েছে হাই কোর্ট। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাই কোর্ট বেঞ্চ বুধবার ওই আবেদনের ওপর শুনানি করে বৃহস্পতিবার খারিজের এই আদেশে দেয়। আদালতে খালেদার পক্ষে শুনানি করেন আব্দুর রেজাক খান। তাকে সহযোগিতা করেন আইনজীবী জাকির হোসেন ভূঁইয়া। দুদকের পক্ষে ছিলেন খুরশীদ আলম খান। আদেশের পর জাকির হোসেন ভূঁইয়া সাংবাদিকদের বলেন, তারা এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যাবেন।

এতিমদের জন্য বিদেশ থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০০৮ সালে জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা দায়ের করে দুদক। সেখানে অর্থের উৎস সম্পর্কিত অংশ পুনঃতদন্তের জন‌্য আবেদন করার পর মঙ্গলবার জাকির হোসেন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, মামলার অভিযোগে বলা হচ্ছে, এই টাকা সৌদি আরব থেকে এসেছে এবং খালেদা জিয়া তা আত্মসাৎ করেছেন। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে কুয়েতের আমির এই টাকা দিয়েছেন। জিয়াউর রহমানের প্রতি ভালবাসার নিদর্শন হিসেবে তার নামে একটা ট্রাস্ট করতে তিনি এই টাকা দেন। এই টাকা খালেদা জিয়া আত্মসাৎ করেননি। লাভসহ ব্যাংকে রয়েছে।

২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় এ মামলা দায়ের করা হয় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে। তদন্ত শেষে দুদক ২০০৯ সালের ৫ অগাস্ট আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। তার পাঁচ বছর পর ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ ঢাকার তৎকালীন তৃতীয় বিশেষ জজ বাসুদেব রায় অভিযোগ গঠন করে খালেদাসহ ছয় আসামির বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। খালেদা জিয়া ছাড়া মামলার অন্য আসামিরা হলেন- মাগুরার সাবেক সাংসদ কাজী সালিমুল হক কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, খালেদার বড় ছেলে তারেক রহমান, সাবেক মুখ্য সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।

খালেদা জিয়া, সালিমুল হক কামাল ও শরফুদ্দিন আহমেদ এ মামলায় জামিনে আছেন। খালেদার বড় ছেলে তারেক রহমান গত নয় বছর ধরে দেশের বাইরে, তার বিরুদ্ধে এ মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। এছাড়া কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান মামলার শুরু থেকেই পলাতক।

LEAVE A REPLY