ইউটিউবে কোটিবারের বেশি দেখা হয়েছে ইমরান ও মিনারের গান। 
ইউটিউবে কোটিবারের বেশি দেখা হয়েছে ইমরান ও মিনারের গান। ভিডিও দেখার মাধ্যম ইউটিউবে মিনার ও ইমরানের দুটি গান দেখা হয়েছে এক কোটিবারের বেশি। সেই হিসাবে বলা যায়, ‘কোটিপতি’ গায়ক তাঁরা। অন্য সব গান ছাড়িয়ে কীভাবে সম্ভব হলো এটি? সেই রহস্য উন্মোচন করতেই এক বিকেলে দুই গায়ক বসেছিলেন হাবিবুল্লাহ সিদ্দিকের সঙ্গে।

হাতিরঝিলে যে জায়গাটায় ছবি তোলা হবে সেখানে আগে চলে এলেন মিনার। ‘ঝুম’ করে বৃষ্টি নামার মতো করে গাড়ি থেকে নেমে হাত বাড়িয়ে দিলেন। অপেক্ষা ইমরানের জন্য। ততক্ষণে মুঠোফোনে খুদে বার্তা দিয়েছেন এ গায়ক— ‘কামিং’। বাসা তাঁর এত কাছে যে বলতে বলতেই চলে আসার কথা। এলেনও। মিনারের সঙ্গে রাস্তার টং দোকানে দাঁড়িয়ে চা পান করার সময়ই চলে এলেন ইমরান। শুরু হলো ছবি তোলার পালা। সবকিছু শেষ করে বসলেন তাঁদের দুই গানের গল্প করতে। কী করে নিজেদের একটি গান দেখা হলো কোটি বারের বেশি তা জানাতে।

কোটিতে কেন ‘ঝুম’?

২০১৬ সালের ১৬ জুন গানচিলের ইউটিউব চ্যানেলে আপলোড হয়েছে মিনারের গাওয়া ‘ঝুম’ গানটি। তারপর বছর না ঘুরতেই সেটি কোটি পার হয়েছে। কী এমন আছে এই গানে? মিনারের সহজ উত্তর ‘সেটা কোটিবার দেখা দর্শকই ভালো বলতে পারবেন। তবে আমার কাছে যেটা মনে হয়…।’ একটু থামলেন মিনার। তারপর বললেন, ‘গানের শিরোনাম “ঝুম”—এই শব্দ দিয়ে একজন মানুষের যাবতীয় আবেগ অনুভূতি বোঝানো যায়। এ কারণেই সবাই গানটি পছন্দ করছেন, দেখছেন।’

ঝুম দেখার জন্য ভিডিওটা কি বড় ভূমিকা রাখছে? ‘রাখছে, তবে এত বেশি বার দেখার জন্য নয়, গানের প্রচারণার জন্য। দিন শেষে গান শোনারই বিষয়। ভালো লাগলে মানুষ শুনবেই। ঝুমের বেলায় এটাই ঘটেছে।’ বললেন িমনার।

চলতি পথের গল্প বললেন ইমরান

গান ‘প্রমোট’ করার একটা অস্ত্র মিউজিক ভিডিও, এটা মানলেন ইমরান। এ কারণেই মিউজিক ভিডিওর বেলায় ইমরান বরাবরই বেছে নেন সুন্দর লোকেশন। তারই প্রতিফলন ঘটেছে ‘বলতে বলতে চলতে চলতে’ গানটির ভিডিওর বেলায়। পুরো গানটির মিউজিক ভিডিও শুটিং হয়েছে বান্দরবানের সাজেক ভ্যালিতে। এ দেশে এত সুন্দর লোকেশন আছে, এটা অনেকেই হয়তো জানেন না। ইমরানের দাবি, এর আগে বান্দরবানের সাজেক ভ্যালিতে কোনো গানের শুটিং হয়নি।

২০১৫ সালের ৫ এপ্রিল গানটি আপলোড করা হয়েছিল ইমরান মাহমুদুলের নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলে। আর আপলোডের দুই বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই সেটি ছাড়িয়ে যায় কোটির সংখ্যা। অনুভূতিটা কেমন? ‘যেদিন এক কোটি পূর্ণ হয়, সেদিনের অনুভূতিটা বোঝানো কঠিন। আমার জানা মতে, এর আগে কোনো গান এক কোটির মাইলফলক ছুঁতে পারেনি।’ এই গান এক কোটিবার দেখার আরও একটা কারণ বললেন তিনি—এটা এমন গান, যেখানে একটা মানুষের প্রেমে পড়ার অনুভূতি বোঝানো হয়েছে। কথাগুলো এমনই। আর এই অনুভূতির মধ্য দিয়ে কেউ যায়নি এমন মানুষ তো নেই।

যেখানে এসে দাঁড়ালেন

কথা বলতে বলতে হাতিরঝিলে ভিড় বাড়ে। ইউটিউবের জনপ্রিয় এই দুই শিল্পীকে সামনে পেয়ে সেলফি শিকারিরা মুঠোফোনের ক্যামেরা সচল করেন। কেউ কেউ বাড়িয়ে দেন হাত। কথা বলার ফাঁকে ফাঁকে ভক্তদের সঙ্গে হাত মেলান দুজনই। প্রশ্ন করি, আপনারা তো ইউটিউব ঢের জনপ্রিয়। কিন্তু সব ধরনের ভক্তই এগিয়ে আসছেন দেখছি।

ইমরান বলেন, ইউটিউব তো এখন সবার হাতে হাতে। শুধু ডেটা থাকলেই হলো। তাই না চেনার কোনো কারণ নেই।

তাহলে কি সিডির আবেদন ফুরিয়ে যাচ্ছে? যেন এমন প্রশ্নের জন্যই মুখিয়ে ছিলেন মিনার। ‘কখনোই সিডির আবেদন ফুরিয়ে যাবে না। আমাকে যাঁরা পছন্দ করেন, যাঁরা আমার গানগুলো সংগ্রহ রাখতে চান, তাঁরা স্মারক হিসেবে সিডি কিনবেনই।’

মিনারের কথায় সায় দিলেন ইমরান। তবে আরও একটা তথ্য যোগ করলেন। সিডি বা অডিও ক্যাসেট প্রকাশ পাওয়ার পর কখনোই জানা হতো না গানগুলো কতবার শোনা হয়েছে বা কোন গান কতটা জনপ্রিয়। ইউটিউব হওয়াতে সেটা সহজ হয়েছে। যে কেউ বুঝতে পারেন কোন গান কতটা হিট।

কথা শেষ করতে হবে। হাতিরঝিলে এ প্রান্তে ভক্তের ভিড় বাড়ছে। গাড়ি দাঁড় করিয়ে অনেকে জানালার গ্লাস নামিয়ে দেখছেন এমন ‘কোটিপতি’ দুই গায়ককে। যানজট সৃষ্টি হওয়ার আগেই বিদায় নিলেন দুজন। যাওয়ার আগে ব্যক্তিগত এক প্রশ্নের উত্তরে দুজনই বললেন, এখনই বিয়ে নিয়ে ভাবছেন না তাঁরা। আপাতত ভাবনা গান নিয়ে। আপাতত বছর তিন–চারেক শুধু গান নিয়ে আলাপ হবে।

সুবীর নন্দীসুবীর নন্দীসুবীর নন্দী
সংগীতশিল্পী
তরুণেরা ভালো গান করছেন। আর তাঁদের একেকটি গান যদি কোটিবার দেখা হওয়ার রেকর্ড হয়, সেটা অবশ্যই ভালো দিক। তবে আমার কাছে মনে হয়, কতবার দেখা হলো সেটা হিসাব না করে মন দিয়ে ভালো গান করা উচিত। সেদিকে নজর দিলে সবার জন্যই ভালো হবে।

LEAVE A REPLY