ইয়াংঘি লি। ছবি: রয়টার্স

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে দেশটির সেনাবাহিনী ও পুলিশ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করছে। মিয়ানমারের মানবাধিকারবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ র‍্যাপোর্টিয়ার ইয়াংঘি লি এ কথা বলেছেন। আজ শুক্রবার বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত সহিংসতা সম্পর্কে বিবিসি নিউজনাইট-বিবিসি আওয়ার ওয়ার্ল্ডের যৌথ অনুসন্ধানে ইয়াংঘি লি বলেন, ‘আমি বলব, মানবতাবিরোধী অপরাধ। বার্মিজ, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বা পুলিশ বা নিরাপত্তা বাহিনী কর্তৃক নিশ্চিত মানবতাবিরোধী অপরাধ।’

মানবাধিকার পরিস্থিতি পরিদর্শনে জানুয়ারিতে মিয়ানমারে যান ইয়াংঘি লি। কিন্তু তাঁকে সংঘাতপূর্ণ এলাকা মুক্তভাবে পরিদর্শন করতে দেওয়া হয়নি।

রাখাইন থেকে প্রাণভয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের দেখতে ফেব্রুয়ারিতে ইয়াংঘি লি বাংলাদেশ সফর করেন। বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। পরে বিবিসিকে ইয়াংঘি লি বলেন, তাঁর ধারণার চেয়ে রাখাইনের পরিস্থিতি অনেক খারাপ।

ইয়াংঘি লির সফর সম্পর্কিত প্রতিবেদন ১৩ মার্চ প্রকাশ করা হতে পারে। প্রতিবেদনে রোহিঙ্গা সমস্যা বিষয়ে পাওয়া সব তথ্য উল্লেখ করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইয়াংঘি লি বলেছেন, রাখাইনে নিরাপত্তা বাহিনীর নির্যাতন-নিপীড়নের দায়ভার দেশটির ক্ষমতাসীন অং সাং সু চির নির্বাচিত সরকার এড়াতে পারে না। নিজেদের জনগণের বিরুদ্ধে সংঘটিত ব্যাপকভিত্তিক ভয়ংকর নিপীড়ন ও নিষ্ঠুর অপরাধের বিষয়ে দিন শেষে বেসামরিক সরকারকেই জবাব দিতে হয়।

প্রায় এক বছর ধরে মিয়ানমারের ক্ষমতায় আছে সু চির সরকার। রাখাইনে রোহিঙ্গা নিপীড়নের অভিযোগের বিষয়ে সু চি বিবিসিকে সাক্ষাৎকার দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

তবে তাঁর দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) এক মুখপাত্র বলেন, অভিযোগগুলো ঢালাও। তা ছাড়া এটি মিয়ানমারের একটি অভ্যন্তরীণ বিষয়। এটি কোনো আন্তর্জাতিক বিষয় নয়।

সীমান্তে মিয়ানমারের কয়েকটি নিরাপত্তা ফাঁড়িতে গত বছরের ৯ অক্টোবর সন্ত্রাসী হামলা হয়। এতে দেশটির নয়জন পুলিশ সদস্য নিহত হন। হামলার পর কথিত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে রাখাইনে দমন অভিযান শুরু করে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। রোহিঙ্গাদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর নির্যাতন, নিপীড়ন, হত্যা, ধর্ষণ, গণধর্ষণ, ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ, লুটপাটের মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠে। সহিংস অভিযানের মুখে রাখাইন থেকে ৭০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

LEAVE A REPLY