হ্যামিল্টনে সেঞ্চুরির পর মাহমুদউল্লাহ যেন টেস্টে তিন অঙ্কের স্বাদ ভুলতেই বসেছেন ! ফাইল ছবি

ডিসেম্বরে নিউজিল্যান্ড সফরের আগে মাহমুদউল্লাহ খানিকটা আফসোস করেই বলছিলেন, ‘এবার তো হ্যামিল্টনে খেলা নেই!’ হ্যামিল্টনের সেডন পার্ক মাঠটা যে তাঁর বড় ‘প্রিয়’, বড় ‘পয়া’! এই মাঠ তিনি তো ‘মিস’ করবেনই।

২০০৯ সালের ৯ জুলাই সেন্ট ভিনসেন্ট টেস্টে অভিষিক্ত মাহমুদউল্লাহ প্রথম সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছিলেন নিজের পঞ্চম টেস্টেই। আর সেটি হ্যামিল্টনে। ২০১০ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে প্রথম ইনিংসে আটে নেমে করা ১১৫ রানটা এখনো পর্যন্ত টেস্টে তাঁর সর্বোচ্চ। সময়ের স্রোতে পেরিয়েছে ৭ বছর ২২ দিন (২৫৭৯ দিন), এখনো টেস্টে দ্বিতীয় সেঞ্চুরিটার দেখা পাননি বাংলাদেশ দলের এই টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান।
দলের একজন টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান কেন দীর্ঘ দিন ধরে সেঞ্চুরি পাচ্ছেন না সেটি গবেষণার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন নয় যে ছন্দে না থাকায় মাহমুদউল্লাহ বারবার দল থেকে বাদ পড়েছেন বা চোটের কারণে ব্যাহত হয়েছে তাঁর অগ্রযাত্রা। তাঁর অভিষেকের পর বাংলাদেশ খেলেছে ৪০ টেস্ট, এর মধ্যে ৩৩টিতেই ছিলেন তিনি। ৩০.৬৬ গড়ে করেছেন ১৮০৯ রান। ক্রিকেটের তিন সংস্করণেই তাঁর সাম্প্রতিক ফর্মটাও খারাপ নয়। টেকনিক, ফিটনেস, অভিজ্ঞতায় এই মুহূর্তে বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান হিসেবে বিবেচনা করা হয় তাঁকে। কিন্তু এত প্রশংসার মাঝেও একটা তির্যক প্রশ্ন, টেস্টে মাহমুদউল্লাহর ইনিংস কেন তিন অঙ্ক স্পর্শ করছে না?
প্রথম সেঞ্চুরির পর মাহমুদউল্লাহ ফিফটি করেছেন ১১টি। এর মধ্যে ষাটের ঘরে গিয়ে আউট হয়েছেন পাঁচবার, পঞ্চাশের ঘরে চারবার। সেঞ্চুরিবিহীন এই সময়ে মাহমুদউল্লাহর সর্বোচ্চ রান ৭৬।
দীর্ঘ সময় পর সেঞ্চুরির দেখা পাওয়ার উদাহরণ মাহমুদউল্লাহর সামনেই আছে—উপুল থারাঙ্গা। চাইলে গল টেস্টের এক ফাঁকে শ্রীলঙ্কান ব্যাটসম্যানের অভিজ্ঞতাটা জেনে নিতে পারেন তিনি। ২০০৬ সালে বগুড়ায় বাংলাদেশের বিপক্ষে নিজের তৃতীয় টেস্টে সেঞ্চুরি করেছিলেন থারাঙ্গা, এরপর টেস্টে আর তিন অঙ্কের দেখা পাচ্ছিলেন না। তবে এও ঠিক, এই দীর্ঘ সময়ে মাত্র ১৮টি টেস্ট খেলারই সুযোগ পেয়েছেন শ্রীলঙ্কান বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। গত বছর অক্টোবরে জিম্বাবুয়ের সঙ্গে ৩৮৮৭ দিন পর সাদা পোশাকে সেঞ্চুরি পেয়েছেন থারাঙ্গা। দীর্ঘ সময় পর সেঞ্চুরি পাওয়ার রেকর্ডে থারাঙ্গা তবুও একটু নিচের দিকেই থাকছেন। ওয়ারেন বার্ডসলির পঞ্চম ও ষষ্ঠ সেঞ্চুরির মাঝে ব্যবধান ছিল ১৩ বছর ৩৪৬ দিন!
মাহমুদউল্লাহকে নিশ্চয়ই বার্ডসলির মতো দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হবে না!

টেস্টে দুই সেঞ্চুরির মধ্যে দীর্ঘ ব্যবধান

ব্যবধান ব্যাটসম্যান দেশ সাল
১৩ বছর ৩৪৬ দিন ওয়ারেন বার্ডসলি অস্ট্রেলিয়া ১৯১২-১৯২৬
১২ বছর ১৫৯ দিন মুশতাক আলী ভারত ১৯৩৬-১৯৪৮
১০ বছর ৩৫১ দিন ফ্র্যাঙ্ক উলি ইংল্যান্ড ১৯১২-১৯২৩
১০ বছর ২৩৮ দিন উপুল থারাঙ্গা শ্রীলঙ্কা ২০০৬-২০১৬
১০ বছর ২৩ দিন বিজয় মার্চেন্ট ভারত ১৯৩৬-১৯৪

LEAVE A REPLY