রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে হাসিনানগর গ্রামে অসুস্থ, অপ্রকৃতিস্থদের সেবার উদ্দেশ্যে গড়ে উঠেছে গ্লোরি চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশন। রাস্তাঘাট, রেলস্টেশন ও বাসস্ট্যান্ডে অসুস্থ-অসহায় কাউকে পড়ে থাকতে দেখলেই এখানে তুলে নিয়ে আসেন মারুফ কেইন। করেন সেবাযত্ন, চিকিৎসার দরকার হলে নিয়ে যান হাসপাতালে। যত দিন সুস্থ না হন, তত দিন পাশে থাকেন।

১১ মার্চ শনিবার দৈনিক প্রথম আলো- এ প্রকাশিত ‘মারুফের তুলনাহীন মানবসেবা’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এ সব তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মারুফের চেষ্টায় হাসিনানগর গ্রামে ৭ শতক জমির মাঝখানে গড়ে উঠেছে গ্লোরি চ্যারিটেবল অর্গানাইজেশনের কার্যালয়। এ পর্যন্ত ১৯ জন নারীসহ ২৬ জন অজ্ঞাত অসহায় অসুস্থ মানুষকে তুলে এনে সেবাযত্ন ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছেন মারুফ। যারা ঠিকানা বলতে পারেন না, তাদের স্থান মেলে এই প্রতিষ্ঠানে। এখানে ঠিকানাহীন এমন অসহায় ছয়জন নারীর সেবা-শুশ্রূষা দেওয়া হচ্ছে।

১৯৭৮ সালে কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার রামদাশ ধনীরামপাড়া গ্রামের মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন মারুফ। বাবার নাম আমিনুল ইসলাম, মা ফাতেমা বেগম। আট ভাইবোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। ১৯৯৮ সালে বিএ পাস করেন। ২০০০ সালে পাশের বিজয়রাম গ্রামের মরিয়ম বেগমকে বিয়ে করেন। ১০ বছর বয়সের একমাত্র ছেলেসন্তান রয়েছে তাদের।

মারুফ বলেন, ‘২০০৭ সালে দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলার বেসরকারি চিকিৎসা সংস্থা মিশনারি ল্যাম্ব হাসপাতালে চাকরি নেন। চাকরির কাজে তাকে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ছুটতে হতো। অবহেলায় পড়ে থাকা অসুস্থ, অপ্রকৃতিস্থ মানুষ দেখলে তাদের জন্য কিছু একটা করার তাগিদ অনুভব করতেন তিনি।’

LEAVE A REPLY