”শিক্ষাই জাতীর মেরুদন্ড” সেই মেরদন্ডই ধীরে ধীরে ভেঁঙ্গে যেতে বসেছে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। নারী শিক্ষার এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্তের ভারে আস্তে আস্তে ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ভেঁঙ্গে পড়ছে শিক্ষা কার্যক্রম ও পাঠদান ব্যবস্থা। এমনটাই বলছিলেন এলাকাবাসীর অনেকেই। বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষিকা (ভারপ্রাপ্ত) পারিবারিক ঝামেলায় পড়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই এভাবেই তালবাহানা করে বিদ্যালয়টিকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। অথচ দেখার কেউ নেই। নেই শিক্ষা বিভাগের তদারকি। এ যেন এক আজব ব্যাপারে পরিণত হয়েছে। কার কাছে গিয়ে নালিশ করবো ? কে-বা করবে এর সমাধান ? কাউকেই তো দেখি না। সবাই তো তার অলৌলিক ক্ষতার দাপটে কাহিল হয়ে পড়েছে। আকাশের আবহাওয়া একটু পরিবর্তন হলে কিংবা সামান্য বৃষ্টি হলেই-ব্যাচ; কেল্লা ফতে। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের আর দেখা মিলে না। এভাবেই কথাগুলি বললেন এলাকাবাসীর নাম প্রকাশে অনৈচ্ছুক অনেকেই। গত ১১ মার্চ শনিবার দুপুর ১২.৩০ মিনিটে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার খগা বড়বাড়ী (বন্দরখড়িবাড়ী) বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেল এমনিই একটি চিত্র। শনিবার সকাল থেকে আকাশের বৈরি আবহাওয়ায় একটু রিমঝিম বৃষ্টি পড়ছিলো। আর এই বৃষ্ঠির ছলে বিদ্যালয়টি আর খোলা হলো না বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের। এদিকে ভারপ্রাপ্ত শিক্ষকের গত তিন দিন ধরে বিনা ছুটিতে পারিবারিক কাজে কোথায় অবস্থান করছেন কেহই জানেন ন্।া অপর দিকে এরই সুযোগ নিয়ে সামান্য বৃষ্টির অজুহাতে সারাদিন বিদ্যালয়ের তালা খোলা হলো না। ফলে বিদ্যালয়টি থাকলো বন্ধ। উক্ত সময়ে বিদ্যালয়ের মাঠে গিয়ে দেখা হয় ঐ বিদ্যালয়ের বেশ কিছু কোমলমতি প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের সাথে। কথা হলো শিক্ষার্থী মোছাঃ তানিয়া আক্তার (৪থ শ্রের্ণী), মোছাঃ সুরাইয়া মনি (৫ম শ্রের্ণী), মোছাঃ বিপ্লবী আক্তার (৫ম), মোছাঃ রিয়া মনি (১ম), মোছাঃ রীক্তা আক্তার (৪র্থ)সহ আরো অনেকের সাথে। তারা সংবাদকর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে বলে,আমরা সকালেই স্কুলে এসেছি। কিন্তু আমাদের স্যারেরা কেহই আসেননি। আজ বৃষ্টি তাই স্কুল বন্ধ স্যারেরা কেহই আসেননি। আমাদের বড় আপুদের মধ্যে অনেকে এসেছিল কিন্তু স্কুল বন্ধ দেখে আপুরা চলে গেছে। আমরা একটু খেলছি। স্যারেরা কেহই আসেননি। আমরা একটু পরেই চলে যাবো। বিদ্যালয়টি একেবারেই বন্ধ থাকায় একটু এদিক সেদিক তাকাতেই দেখা মিললো বিদ্যালয়ের নৈশ্যপ্রহরী হোসেন আলীর । কথা হয় তার সাথে, কিছু প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি এই বিদ্যালয়ের নৈশ্যপ্রহরী। তবে স্কুল খোলা না বন্ধ, তা আমি বলতে পারবো না। এ ব্যাপারে আপনারা ম্যাডামের সাথে কথা বলেন। এ সময় স্থানীয় এলাকাবাসীর একজন জানালেন এই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের হাত অনেক লম্বা। তার সস্পর্কে লেখালেখি করে কোন লাভ হবে না। তিনি তার খেয়াল খুশিমত এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আসেন। মন চাইলে বিদ্যালয়ে থাকেন না চাইলে তেনার মন যা চায় তাই করেন। এ ব্যাপারে উক্ত বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা মোছাঃ মারুফা বেগম লিজা’র মুঠোফোনে বারংবার যোগযোগ করার চেষ্ঠা করলে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এবং এ সময় জানা যায় তিনি গত ৩ দিন ধরে বিদ্যালয়ে আসেননি।  বিদ্যালয়টি অঘোষিত ছুটিতে আছে বিষয়ে সরাসরি কথা হয় খগাখড়িবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম লিথনের সাথে, বিদ্যালয়টি সারাদিন বন্ধের কথা শুনে তিনি সংবাদকর্মীদের জানান, যদি এমনটা হয় থাকে তাহলে সেটি  অত্যান্ত দুঃখ্যজনক। এবং বিধি সম্মত নয়। এটা নিয়ম নীতির বাইরে। তবে তিনি আরো বলেন, এভাবে চলতে থাকলে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান হারিয়ে ফেলবে, ভেঁঙ্গে পড়বে বিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থা। এ ব্যাপারে ডিমলা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আহসান হাবিব এর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে  তিনি বলেন, সরকারীভাবে আজ কোন বন্ধ নাই। তবে কেন বিদ্যালয়টি বন্ধ তা আমার জানা নেই। বিষয়টি নিয়ে উক্ত বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোঃ আনিছুর রহমান দুলুর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমি সহকারী শিক্ষক মোঃ আকমল হোসেনের সঙ্গে কথা বলেছি তিনি বলেছেন ৪টি ক্লাশ নিয়ে বিদ্যালয় ছুটি দেওয়া হয়েছে। অথচ আপনারা বলছেন বিদ্যালয়টি সর্ম্পূনরুপে বন্ধ ছিলো । এটা আমার জানা নেই। এভাবেই খুঁড়িয়ে খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে বিদ্যালয়টির শিক্ষা ও পাঠদান ব্যবাস্থা । বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির শিক্ষার গুনগত মান উন্নয়নের জন্য শিক্ষকদের নানাবিদ সুযোগ সুবিধা বাড়িয়ে দিচ্ছেন। তুলে দিচ্ছেন শিক্ষার্থীদের হাতে শিক্ষা উপকরণ,বিনামূল্যে বই, রেখেছেন ফিডিং ব্যবস্থা। অথচ উক্ত বিদ্যালরেয়র শিক্ষকদের অবহেলায় তালবাহানা করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করায় শিক্ষার গুরগত মান নি¤œমূখী ও ভেঙ্গে পড়ছে শিক্ষা ব্যবস্থা। সুতরাং এলাকাবাসীর প্রাণের দাবী আমাদের সন্তানদের সুষ্ঠু পাঠদান, শিক্ষার গুনগত মান উন্নয়নে এবং এসব নানাবিধ অনিয়ম দুর করতে সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন।