ওজনে অনিয়ম করলে সর্বোচ্চ এক বছরের জেল এবং এক লাখ টাকার জরিমানার বিধান রেখে ‘ওজন ও পরিমাপ আইন, ২০১৭’-এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। আজ সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের জানান, সুপ্রিম কোর্টের আদেশে ১৯৮২ সালের ‘দ্য স্ট্যান্ডার্ড অব ওয়েট অ্যান্ড মেজার্স অর্ডিন্যান্স’ সংশোধন ও পরিমার্জন করে আন্তর্জাতিকভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে বাংলা ভাষায় আইনটির খসড়া তৈরি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, খসড়া আইনে আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র আর্থিক শাস্তির পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে মানদ-হীন বাটখারা বা পরিমাপক ব্যবহারের শাস্তি অনূর্ধ্ব ছয় মাসের কারাদণ্ডের সঙ্গে অর্থদণ্ড তিন হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সরকারের অনুমতিক্রমে সম্পূর্ণ রপ্তানির উদ্দেশ্যে তৈরি বা উৎপাদিত কোনো বাটখারা বা পরিমাপক ব্যতীত কোনো পরিমাপক তৈরি করার অপরাধে অনূর্ধ্ব এক বছরের কারাদ- বা এক লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। আগে জরিমানা ছিল ১০ হাজার টাকা। তবে এই অপরাধে অনূর্ধ্ব এক বছরের কারাদণ্ড বহাল থাকছে।
শফিউল আলম বলেন, সরকারের অনুমতিক্রমে সম্পূর্ণ রপ্তানির উদ্দেশ্যে তৈরি বা উৎপাদিত কোনো ওজন বা পরিমাপক ব্যতীত অন্য কোনো ওজন বা পরিমাপক উৎপাদন করলে উৎপাদনকারীর শাস্তি অনুর্ধ্ব এক বছরের জেল অথবা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা। আগে জরিমানার পরিমাণ ছিল পাঁচ হাজার টাকা।
যদি কোনো ব্যক্তি সত্যতা প্রতিপাদনের জন্য পরিলক্ষিত ত্রুটি সংশোধন ব্যতীত অন্য কোনো উপায়ে রেফারেন্স স্ট্যান্ডার্ড, সেকেন্ডারি স্ট্যান্ডার্ড বা প্রচলতি মানদ- পরিবর্তন বা পরিমিত করে তাহলে সেই ব্যক্তি অনুর্ধ্ব ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। এর আগে জরিমানা ছিল পাঁচ হাজার টাকা, তবে এই অপরাধে দুই বছরের কারাদ- বহাল থাকছে।  এ ছাড়াও আন্তর্জাতিক মান সংস্থাসহ (আইএসও) অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর নিয়মকানুন এ আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।