শততম টেস্টেও টস নামক ভাগ্য পরীক্ষায় পরাজিত বাংলাদেশ অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম। তবে কলম্বো টেস্টে মুশফিকের টস হারাটা মনে হচ্ছে বাংলাদেশের জন্য সাপেবরই হয়েছে!প্রথমে বোলিং করার সুযোগ পেয়েই যে জ্বলে উঠেছেন বাংলাদেশের বোলাররা। দিনের প্রথম সেশনেই চার চারটি উইকেট তুলে নিয়েছেন বাংলাদেশি বোলাররা। স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা মধ্যাহ্ন বিরতিতে গেছে ৪ উইকেটে ৭০ রান নিয়ে। এই ৭০ রান এসেছে ২৭.৪ ওভারে। ৪ উইকেটের মধ্যে ১টি নিয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান। ২টি মেহেদী হাসান মিরাজ। শেষটি শুভাশীষ রায়। স্কোরবোর্ডের দিকে তাকিয়ে বাংলাদেশি বোলাররা দাবি করতেই পারেন-‘মাইলফলক স্পর্শের টেস্টের প্রথম সেশনটি আমাদের।’

দিনের শুরু থেকেই কলম্বোর পি. সারা ওভালে আগুন ঝরাতে শুরু করেন মোস্তাফিজ-শুভাশীষ। প্রথম তিন ওভারই মেডেন নেওয়া মোস্তাফিজ পঞ্চম ওভারে পেয়ে যান কাঙ্খিত উইকেটের দেখাও। তিনি গালিতে মেহেদীর ক্যাচ বানিয়ে ফেরান শ্রীলঙ্কান ওপেনার দিমুথ করুনারত্নেকে। ৩২ বলে মাত্র ৭ করে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান করুনারত্নে। একটু পর মেহেদীও ভাসেন উইকেট প্রাপ্তির আনন্দে। নিজের তৃতীয় এবং ইনিংসের ১২তম ওভারে তিনি ফেরান গল টেস্টে বাংলাদেশকে হতাশায় পুরিয়ে মারা কুশল মেন্ডিসকে। গলেতে ১৯৪ রানের ইনিংস খেলা কুশল এবার ৫ রানেই সাজঘরে। এই আনন্দের রেশ না কাটতেই আবারও উইকেট পেয়ে যান মেহেদী।

এবার তার শিকার লঙ্কার অভিজ্ঞ ওপেনার উপুল থারাঙ্গা। তিনি ফিরেন ১১ রান করে। ৩৫ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলার পর শ্রীলঙ্কাকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টায় নেমেছিলেন দিনেশ চান্ডিমাল ও আসেলা গুনারত্নে। চতুর্থ উইকেটে দুজনে ৩৫ রানের জুটিও গড়েছিলেন। কিন্তু মধ্যাহ্ন বিরতির ঠিক আগ মুহূর্তে এই জুটিও ভেঙে দিয়েছেন শুরুতে দারুণ বোলিং করেও উইকেটশূন্য থাকা শুভাশীষ রায়। দারুণ এক ডেলিভারিতে শুভাশীষ গুনারত্নেকে ফেলেন এলবিডব্লুর ফাঁদে। ১৩ রান করে গুনারত্নের আউটের পরই দুই আম্পায়ার মধ্যাহ্ন বিরতির ঘোষণা করেন। দারুণ এই শুরুর পর মুশফিকদের প্রথম দিনের মধ্যাহ্ন বিরতিটা ভালো কাটবে সন্দেহ নেই। এখন প্রত্যাশাটা একটাই, দারুণ এই শুরুটা যেন ফিরে এসেও ধরে রাখতে সক্ষম হন মোস্তাফিজ-মেহেদী-শুভাশীষরা!

এর আগে শততম টেস্টেও টস নামক ভাগ্য পরীক্ষায় হেরে যান বাংলাদেশ অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম। গল টেস্টের মতো কলম্বো টেস্টেও টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং নেন শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক রঙ্গনা হেরাথ। যার অর্থ, মাইলফলক স্পর্শের ম্যাচেও প্রথম পরীক্ষায় নামতে হচ্ছে বাংলাদেশি বোলারদের। সেই পরীক্ষায় শুরুতেই দারুণ সফল মোস্তাফিজ-মেহেদী।গল টেস্টের একাদশ থেকে বাংলাদেশ দলে পরিবর্তন আসবে এমনটা প্রত্যাশিতই ছিল। কারণ গল টেস্টে খেলা মাহমুদউল্লাহ কলম্বো টেস্টের দলেই নেই। তবে এই একটা নয়, বাংলাদেশ দলে পরিবর্তন এসেছে ৪টি! পাজরের চোট শেষ পর্যন্ত কেড়েই নিয়েছে উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান লিটন দাসের মাঠে নামার স্বপ্ন। লিটনের ছিটকে পড়ার অর্থ, আবারও কিপিং গ্লাভসের বোঝা উঠছে অধিনায়ক মুশফিকের কাঁধে। গল টেস্টের একাদশ থেকে বাদ পড়েছেন মুমিনুল হকও। মুমিনুল হকের জায়গা নিয়েছেন ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পুরস্কার পেয়ে শ্রীলঙ্কায় উড়ে যাওয়া ইমরুল কায়েস। মাহমুদউল্লাহ ও লিটন দাসের জায়গায় একাদশে ঢুকেছেন সাব্বির রহমান ও মোসাদ্দেক হোসেন। মানে দেশের শততম টেস্ট দিয়েই টেস্ট অভিষেক হচ্ছে মোসাদ্দেক হোসেনের।

অন্য পরিবর্তনটি হচ্ছে পেসার তাসকিন আহমেদের জায়গায় ঢুকেছেন স্পিনার তাইজুল ইসলাম। শ্রীলঙ্কার স্পিনিং পিচে তিন পেসার কেন, গল টেস্টে এই প্রশ্নের মুখেই পড়তে হয় অধিনায়ক মুশফিককে। প্রশ্নটা তুলে দিয়েছিল স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার একাদশই। কারণ, লঙ্কানরা গল টেস্টে নেমেছিল দুই পেসার ও তিন স্পেশালিস্ট স্পিনার নিয়ে। শেষ পর্যন্ত মাইলফলকের ম্যাচে বাংলাদেশও হাঁটলো সেই পথেই। স্বাগতিকরা মাঠে নেমেছে দলে একটা পরিবর্তন এনে। পেসার লাহিরু কুমারার পরিবর্তে ঢুকেছেন ব্যাটসম্যান ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা। মানে কলম্বো টেস্টে শ্রীলঙ্কা মাঠে নেমেছে মাত্র এক পেসার নিয়ে!

বাংলাদেশ দল: তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, ইমরুল কায়েস, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহীম (অধিনায়ক ও উইকেটকিপার), সাব্বির রহমান, মোসাদ্দেক হোসেন, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, শুভাশীষ রায় ও মোস্তাফিজুর রহমান।

শ্রীলঙ্কান একাদশ: দিমুথ করুনারত্নে, উপুল থারাঙ্গা, কুশল মেন্ডিস, দিনেশ চান্ডিমাল, আসেলঅ গুনারত্নে, ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা, নিরোশান ডিকভেলা (উইকেটকিপার), দিলরুয়ান পেরেরা, রঙ্গনা হেরাথ (অধিনায়ক), সুরঙ্গা লাকমাল ও লক্ষ্ণণ সান্দাকান।