যথাযথ মর্যাদায় ঐতিহাসিক ‘মুজিবনগর দিবস’ পালন করেছে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন। ঐতিহাসিক এ দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ৯ টায় মিশনের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে দিবসটি উপলক্ষে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। মিশনের সর্বস্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারিগণ এতে অংশ নেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই মুজিবনগর সরকারের রাষ্ট্রপতি, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, উপ-রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদসহ এ সরকারের সকল নেতৃবৃন্দের স্মৃতির উদ্দেশ্যে একমিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

নিরবতা পালন শেষে মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে দেওয়া মহামান্য রাষ্ট্রপতির বাণী পাঠ করেন মিশনের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি তারেক মো: আরিফুল ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করেন মিশনের ইকোনমিক মিনিস্টার ইকবাল আব্দুল্লাহ্ হারুন। এরপর শুরু হয় মূল আলোচনা অনুষ্ঠান।

জাতিসংঘের মত আন্তর্জাতিক ফোরামে মুজিবনগর দিবসের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন তার বক্তব্যে বলেন, আমাদের কর্মে ও চিন্তায় ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসের তাৎপর্য ধারণ করতে হবে।

স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠনের প্রেক্ষাপট, মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বাঙালির গৌরবগাঁথা বিদেশী বন্ধুদের জানাতে নিজ নিজ ক্ষেত্রে আরও বেশি ভূমিকা রাখতে হবে, যা গণহত্যা দিবসের আন্তর্জাতিকীকরণের কাজকে এগিয়ে নিবে।

রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, এই সরকার গঠনের ফলেই বিদেশী বন্ধুরাষ্ট্রসমূহের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি সৃষ্টি হয়েছিল এবং পাকিস্তান ছেড়ে আসা বাংলাদেশের কূটনীতিকদের জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কাজ করা সহজ হয়েছিল।

মিশনের ডিফেন্স অ্যাডভাইজর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম আখতারুজ্জামান বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের পরিকল্পনা প্রণয়ন, দক্ষ পরিচালনা এবং চুড়ান্ত বিজয় অর্জনের ক্ষেত্রে মুজিবনগর সরকারের ঐতিহাসিক অবদান প্রতিটি বাঙালির মনে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

আলোচনা অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মিশনের মিনিস্টার ফাইয়াজ মুর্শিদ কাজী, মিনিস্টার এ টি এম রকিবুল হক, কাউন্সিলর সঞ্চিতা হক, ফার্স্ট সেক্রেটারি মো: হুমায়ুন কবীর ও ফার্স্ট সেক্রেটারি (প্রেস) মো: নুরএলাহি মিনা।

জাতির পিতা ও জাতীয় চারনেতাসহ মুজিবনগর সরকারের যে সকল সদস্য শহীদ হয়েছেন, পরলোকগমণ করেছেন তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে অনুষ্ঠান শেষে দোয়া করা হয়। অনুষ্ঠানটির সার্বিক পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন মিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি জনাব মো: তৌফিকুর রহমান।