২০১৫ সালের নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের পর লেবার পার্টির নেতৃত্ব থেকে বিদায় নেন এড মিলিব্যান্ড। দলীয় এমপিদের তীব্র বিরোধিতার মুখে দলীয় সমর্থকদের বিপুল সমর্থন নিয়ে নেতা নির্বাচিত হন কট্টর বামপন্থী জেরিমি করবিন। নিজ দলের এমপিদের বিরোধিতার কারণে করবিনকে এক বছরের মাথায় আবারও নেতৃত্বের লড়াইয়ে নামতে হয়।
আবারও দলীয় সদস্যদের বিপুল ভোট নেতা নির্বাচিত হলেন করবিন। এরপর থেকে একদিকে মাঠকর্মীদের জোরালো সমর্থন, অন্যদিকে দলীয় এমপিদের বড় অংশের বিরূপ আচরণ মোকাবিলা করেই চলছে করবিনের নেতৃত্ব। পরিস্থিতি এমন যে পরাজয় নিশ্চিত ধরে নিয়ে লেবার পার্টির অনেক এমপি আগাম নির্বাচনের তীব্র বিরোধিতা করেছেন। ইয়ান রাইট, প্যাট গ্লাস, গিজেলা স্টুয়ার্টসহ বেশ কয়েকজন এমপি হার নিশ্চিত ধরে নিয়ে ৮ জুনের নির্বাচনে অংশ নেবেন না বলে জানিয়েছেন।

সর্বশেষ জরিপ বলছে, ক্ষমতাসীনদের থেকে ১৭ শতাংশের ব্যবধানে পিছিয়ে লেবার পার্টি। ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির সমর্থন ৪৩ শতাংশ। লেবার পার্টির সমর্থন মাত্র ২৫ শতাংশ। ২০১৫ সালের নির্বাচনের আগে এ পার্থক্য ছিল শূন্য থেকে ৬ শতাংশের মধ্যে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ের জরিপ উল্টে যাওয়ার নজির আছে। কিন্তু ১৭ শতাংশের ব্যবধান উল্টে যাবে মনে করা স্বাভাবিক নয়।
গতকাল মঙ্গলবার সংসদীয় দলের সভায় করবিন বলেন, আগাম নির্বাচন যে দলের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে দল নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত বলে তিনি দাবি করেন।

ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টি ব্রেক্সিটের সম্পূর্ণ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রচারে নামবে। লিবারেল ডেমোক্র্যাটস বলছে, তারা ব্রেক্সিট প্রশ্নে পুনরায় গণভোট আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দেবে। কিন্তু লেবার পার্টি ব্রেক্সিট ইস্যুতে এখনো কোনো স্পষ্ট অবস্থান ঘোষণা করেনি। রক্ষণশীলদের ক্ষমতায় ফেরা ঠেকাতে গ্রিন পার্টি লেবার ও লিবারেল ডেমোক্র্যাটস পার্টিকে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে নামার আহ্বান জানিয়েছে।