আজ বুধবার রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম এলাকায় পদ্মা নদীর বুকে জেগে ওঠা চর থেকে দেলোয়ার বেপারী নামের এক যুবকের মস্তক বিচ্ছিন্ন লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি স্থানীয় চরদেলুন্দি গ্রামের বেলায়েত হোসেন বেপারীর ছেলে। পেশায় তিনি একজন জেলে ছিলেন।

পুলিশ, নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে জেলে দেলোয়ার বেপারী পাশের পদ্মা নদীতে মাছ ধরার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হন। আপন বড় ভায়রা আলাল কাজী (৪৫), শ্যালক রহিম শেখ (২৮) ও  সাত বছরের শিশুছেলে শাকিল এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন।

পরে ওই দিন সন্ধ্যা থেকে একটি ডিঙ্গি নৌকা করে তারা জাল দিয়ে নদীতে মাছ শিকার করছিলেন। সেখানে বাবার সঙ্গে মাছধরা দেখতে গিয়ে অনেক রাত হওয়ায় শিশু শাকিল ওই নৌকার উপরেই ঘুমিয়ে পড়ে। এ অবস্থায় রাত ১১টার দিকে হঠাৎ অস্ত্রশস্ত্রসহ ৭/৮ জনের অজ্ঞাত একদল দুর্বৃত্ত ইঞ্জিন চালিত অপর একটি ট্রলারে করে এসে মাছধরার ওই নৌকাতে হানা দিয়ে অস্ত্রের মুখে দেলোয়ারকে তুলে নিয়ে যায়।

পরদিন আজ বুধবার ভোরে এলাকার লোকজন পদ্মার ওই চরে দেলোয়ারের লাশ ও বিশ গজ দূরে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় মস্তক পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পরে খবর পেয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানাপুলিশের একটি দল এসে ওই বালুচর থেকে মস্তক বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পড়ে থাকা দেলোয়ারের লাশটি উদ্ধার করে। সুরতহাল রিপোর্ট শেষে ময়না তদন্তের জন্য লাশটি আজ বুধবার দুপুরে রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।

গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি মির্জা আবুল কালাম আজাদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নিহত দেলোয়ার বেপারী চরমপন্থী লালপতাকা দলের একজন সদস্য ছিলেন। দলীয় কোন্দলের জের ধরে এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।