নেত্রকোনার মোহনগঞ্জের ডিঙ্গাপোতা হাওরে একশত ত্রিশ কোটি টাকার বোরো ফসল বিনষ্টের পর এবার সাড়ে সাতশ কোটি টাকার মাছ বিনষ্টের আশংকা করা হচ্ছে। হাওরে মাছের মড়ক দেখা দেয়ায় দুঃচিন্তায় পড়েছে হাওর পাড়ের বাসিন্দারা।

সম্প্রতি বোরো ফসল হারিয়ে দিশেহারা কৃষকেরা। এবার আরও একটি সমস্যা তাদের  ধাওয়া করছে। কৃষক ছাড়াও অস্তিস্ব সংকটে পড়েছে মৎস্যজীবিরা। গত দু’দিন ধরে  ডিঙ্গাপোতা হাওরে মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণী মরে পানিতে ভেসে উঠছে। হাওর পাড়ের গ্রামবাসীরা ভেসে উঠা মাছ সংগ্রহ করছে।

গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে বেশী পঁচা মাছ ও জলজপ্রাণীকে চিল, কাকে খাচ্ছে এবং গরীব মানুষেরা কুড়িয়ে নিয়ে শুকাচ্ছে। মাছের পঁচা দুর্গন্ধে পরিবেশ মারাত্মক দুষিত হচ্ছে। পানি কমতে শুরু করেছে। সাদা রঙয়ের পানি কালো রুপ ধারণ করেছে।

মৎস্য বিজ্ঞানীদের মতে পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়ার কারণে মাছ মরে  ভেসে উঠছে। হাওরের মিঠা পানির মাছের মধ্যে বোয়াল, আইর, রুই, কাতলা, পাবদা, মেনি, বাইন, গনিয়া এবং ছোট মাছের মধ্যে পুটি, চিংড়ি, চাপিলা, টেংরা, গোলশা মাছ ও  মাছের লাখ রেণু পোনা মরে পানিতে ভেসে উঠছে। দেখা গেছে কাকঁড়া, সাপ, শামুক, ঝিনুক মরে পানিতে ভাসছে।

মৎস্য বিজ্ঞানীদের মতে সম্প্রতি পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া হাওরের আধাপাকা, কাঁচা, বোরোধান পচেঁ পানিতে অক্সিজেনের লেভেল ১ পিপিএমের নিচে ও এ্যামোনিয়ার মাত্রা বেড়ে শূন্য দশমিক ৫ ভাগে অতিক্রম করায় মাছ মরে ভেসে উঠছে।

নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক ড.মুশফিকুর রহমান মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুরীর বিভিন্ন হাওর ঘুরে সাংবাদিকদের বলেন, বিশাল জলায়তনে মাছের মড়ক ঠেকাতে প্রতিষেধক প্রয়োগ সম্ভব নয়।