কোরীয় উপসাগরে মোতায়েন করা মার্কিন রণতরীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছে চীন ও রাশিয়া। এ জন্য দেশ দুটি ‘গোয়েন্দা নৌযান’ মোতায়েন করেছে। এমনকি উত্তর কোরিয়ার সীমান্তের দিকে রাশিয়া ক্ষেপণাস্ত্রসহ যুদ্ধ-সরঞ্জাম পাঠিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া গণমাধ্যমে এ কথাও বলা হচ্ছে, উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তপ্ত পরিস্থিতির মোড় ঘুরাতে চীন রাশিয়ার কাছে সহযোগিতা চাইছে।

উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্কে এখন চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি এমন যে যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো সময় উত্তর কোরিয়ায় হামলা চালাতে পারে। এই উত্তেজনার মূলে রয়েছে পিয়ংইয়ংয়ের পরমাণু কর্মসূচি। পিয়ংইয়ংকে ‘শায়েস্তা’ করতে এরই মধ্যে কোরীয় উপসাগরে নৌবহর মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর নেতৃত্বে আছে ‘ইউএসএস কার্ল ভিনসন’ রণতরি। এটি এখন কোরীয় উপসাগর অভিমুখে রয়েছে।

জাপানের ‘ইয়োমিউরি শিমবুন’ পত্রিকার খবর, ‘ইউএসএস কার্ল ভিনসন’-এর গতিবিধি নজরদারি করছে চীন ও রাশিয়া। এ জন্য দুই দেশই গোয়েন্দা নৌযান (স্পাই ভেসেল) পাঠিয়েছে। জাপানের একাধিক সরকারি কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে পত্রিকাটি জানায়, পরিস্থিতি শান্ত করতে পেইচিং এখন মস্কোর সহযোগিতা চেয়েছে। কারণ যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে যুদ্ধ বাধলে প্রতিবেশী দেশ হিসেবে সবচেয়ে ভুক্তভোগী হবে চীন। তাদের সীমান্তে শরণার্থীদের ঢল নামবে।

এদিকে যুক্তরাজ্যের ডেইলি স্টার পত্রিকার খবর, রাশিয়া তাদের ভ্লাদিভস্তোক সীমান্ত এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছে। তবে পত্রিকাটি বলেছে, এই তথ্য ‘নির্ভরযোগ্য’ কোনো সূত্রের নয়। ভ্লাদিভস্তোকের বাসিন্দারা সীমান্তের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ট্যাংক এগিয়ে যাওয়ার দৃশ্যটি ভিডিও করে এবং তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করে। ভ্লাদিভস্তোক সীমান্ত থেকে উত্তর কোরিয়ার দূরত্ব মাত্র আট কিলোমিটার। ওই এলাকায় রাশিয়ার বড় একটি নৌঘাঁটি রয়েছে। সূত্র : ইনডিপেনডেন্ট; ডেইলি স্টার।