যুক্তরাজ্যের সাধারণ নির্বাচন আগামী ৮ জুন অনুষ্ঠিত হবে। আজ হাউস অব কমন্সে দেশটির প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মের এ সিদ্ধান্তকে সমর্থন দিয়েছেন বেশির ভাগ এমপি।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক শেষে অনেকটা আকস্মিকভাবে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঘোষণা দেন থেরেসা মে। আগামী ৮ জুন এ নির্বাচন করতে চান বলে জানান থেরেসা মে। আজ বুধবার এ নিয়ে হাউস অব কমন্সে অনুষ্ঠিত ভোটে প্রধানমন্ত্রীর ওই সিদ্ধান্তের পক্ষে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি ভোট পড়ে।

থেরেসা মের আগাম নির্বাচনের এ পরিকল্পনা পার্লামেন্টে পাস হওয়ার জন্য দুই-তৃতীয়াংশ এমপির সমর্থনের প্রয়োজন ছিল। অর্থাৎ ৬৫০ আসনের হাউস অব কমন্সের ৪৩৪ জন এমপির সমর্থনের প্রয়োজন ছিল। সেখানে ৫২২ জন এমপি ওই সিদ্ধান্তকে সমর্থন দেন।

যুক্তরাজ্যের আগামী সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা ২০২০ সালে। ব্রেক্সিট নিয়ে আলোচনায় আরও শক্ত অবস্থানে থাকার জন্য থেরেসা মে এই নির্বাচনের ঘোষণা দিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আগাম নির্বাচনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে গতকাল বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে বের হয়ে যাওয়ার (ব্রেক্সিট) সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে যুক্তরাজ্যের শক্তিশালী নেতৃত্ব দরকার। দরকার স্থিতিশীলতা এবং নিশ্চয়তা।

গত বছরের জুনে অনুষ্ঠিত ব্রেক্সিট গণভোটে হেরে গিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন পদত্যাগ করেন। নাটকীয়ভাবে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পান থেরেসা মে। সেই থেকে নয় মাস ধরে তিনি মধ্যবর্তী নির্বাচনের সব সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন। হঠাৎ নির্বাচনের এমন ঘোষণা তাই বিরোধী দলগুলোকে অবাক করেছে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, নেতৃত্ব নিয়ে দ্বন্দ্বে লিপ্ত বিরোধী দল লেবার পার্টির জনপ্রিয়তা এখন স্মরণকালের সবচেয়ে নিচে। প্রধানমন্ত্রীর ধারণা, এখন নির্বাচন হলে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির সঙ্গে টেক্কা দেওয়া বিরোধীদের পক্ষে সম্ভব নয়। এই সুযোগে জনসমর্থন আদায় করে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শক্তিশালী ভূমিকা রাখার সুযোগ নিতে চাইছেন থেরেসা মে।