রাজধানীতে পরিবহন নৈরাজ্য অবসানে সিটিং সার্ভিস বন্ধে নিজেদের নেওয়া সিদ্ধান্তে নিজেরাই খুশি নয় পরিবহন মালিক পক্ষ। সিদ্ধান্ত কার্যকরের দিন থেকেই রাজধানীতে বাস চলাচলে নানা অরাজকতা সৃষ্টি করে বিষয়টি যেন হাড়ে হাড়ে বুঝিয়ে দিচ্ছেন তারা। আর এখন জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে তারা আবার সিটিং সার্ভিসে ফেরার পাঁয়তারা করছে বলে অভিযোগ করছেন যাত্রীরা।

বুধবার ( ১৯ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর ফার্মগেট, খামারবাড়ি ও বাংলামটর এলাকায় গত তিন দিন ধরে রাজধানীতে পরিবহন মালিকদের সৃষ্ট নৈরাজ্য চলে আসছে। তার ব্যতিক্রম নেই চতুর্থ দিনেও। এই সব এলাকার স্পটে স্পটে গণ পরিবহনের সঙ্কটে ভোগান্তির চরমে সাধারণ মানুষ। কেউ যাচ্ছেন হেঁটে কর্মস্থলে আবার কেউবা যাচ্ছেন সিএনজি বা রিক্সায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস থামিয়ে সাধারণ যাত্রীরা অনুনয় বিনয় করছেন তাদের নিয়ে যাওয়ার জন্য। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাসের জন্য অপেক্ষায় থেকে তারা সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

যাত্রীরা গণমাধ্যমকে বলেন, প্রথম যখন মালিক পক্ষ সিটিং সার্ভিস বন্ধের ঘোষণা দেয় তখন আমরা অনেক খুশি হয়েছিলাম। এখন মনে হচ্ছে মালিক পক্ষ নাটক সাজিয়ে আমাদের ভোগান্তিতে ফেলে চিরতরে সিটিং সার্ভিসের বিরুদ্ধে যাত্রীদের মুখ বন্ধ করতে চায়। কিন্তু আমাদের যেহেতু ভোগান্তি পোহাতেই হচ্ছে আমরা আর সিটিং সার্ভিস কোনো ভাবেই মেন নেব না।

একজন বললেন, সিটিং সার্ভিসের বিরুদ্ধে যাত্রীদের মুখ চিরতরে বন্ধ করতেই মালিক পক্ষ এমন আচরণ করছে।

রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজারের বাসিন্দা রহিম উদ্দিন খামারবাড়ি মোড়ে মিরপুরগামী বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। তিনি বলেন, আমরা সবই বুঝি মালিক পক্ষ কী চায়। তারা আবার সিটিং নৈরাজ্যতে ফিরে যাবার চেষ্টা করছে। কিন্তু আমরা আর সিটিং সার্ভিস মেনে নেব না। আমরা লোকাল সার্ভিসই চাই।

বাংলামটর এলাকায় বাসের জন্য অপেক্ষমাণ যাত্রী আয়েশা বিনতে ইয়াসমিন বলেন, সিটিং থেকে লোকালেই সুবিধা বেশি। রাজধানীর যানজটের কারণে সিটিং সার্ভিস ও লোকাল সার্ভিসের বাসগুলো একই সময়ে গন্তব্যে পৌঁছে। সেক্ষেত্রে সিটিং সার্ভিসের ভাড়া অনেক বেশি। আর সেই বেশি মুনাফা লাভের আশায় মালিক পক্ষ এই অরাজকতা সৃষ্টি করছে।

সিটিং সার্ভিসে ফিরে যাবার বিষয়টি নিয়ে গণ পরিবহন চালকরাও ইংগিত দিচ্ছেন।

একাধিক চালকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, যে কৌশলেই হোক না কেন মালিক পক্ষ সিটিং সার্ভিসে ফিরে যাবে। আর সিটিং সার্ভিসে ফিরে না যাওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি ঠিক হবে না।

আর একবার ফের সিটিং সার্ভিসে ফিরে গেলে রাজধানীতে হয়তো আর লোকাল সার্ভিসই থাকবে না, দাবি একজন চালকের।

বিহঙ্গ পরিবহনের একজন চালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা তো গাড়ি নিয়ে বের হতে চাই কিন্তু মালিকের বাধার কারণে পারছি না। মালিকরা আমদের বলছেন কয়েক দিন ধৈর্য ধরতে। কিছু দিন পরেই নাকি আবার সিটিং সার্ভিস চালু হবে।