মাইকে আজান নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করার জেরে কঠোর মঙ্গলবার ফতোয়ার মুখোমুখি হয়েছিলেন ভারতীয় সঙ্গীত তারকা সোনু নিগম। সোনুর মাথা মোড়ালে নগদ ১০ লাখ রুপি পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছিলেন ভারতীয় ওয়েস্ট বেঙ্গল মাইনরিটি ইউনাইটেড কাউন্সিলের সহ-সভাপতি সৈয়দ শা আতেফ আলি আল কাদেরি।

এক সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দিয়ে আল কাদেরি বলেন, কেউ সোনু নিগমের মাথা মুড়িয়ে তার গলায় পুরনো ছেঁড়া জুতার মালা পরিয়ে দিয়ে ঘুরাতে পারলে ব্যক্তিগতভাবে তাকে দশ লাখ রুপি দেয়া হবে।’ সনুর বিরুদ্ধে ফতোয়া জারির পর থেকেই তার মুম্বাইয়ের বাসার পাশে নিরাপত্তা জোরদার করে স্থানীয় পুলিশ।

এদিকে মৌলভীর দেয়া ফতোয়া পৌঁছে যায় স্বয়ং সনু নিগমের কানে। টুইটে মৌলভীর এই ফতোয়া ধর্মীয় গুন্ডাগার্দি কেন নয় সেই প্রশ্ন তোলেন গায়ক। শুধু তাই নয় বুধবার দুপুরের মধ্যেই মাথা ন্যাড়া করে ফেলার সিদ্ধান্ত নেন কয়েকদিন ধরে তুমুল বিতর্ক ও আলোচনায় থাকা এই সংগীতশিল্পী। মাথা ন্যাড়া করার জন্য পরিচিত নাপিত আলিম হাকিমকে তিনি তার বাসাতেই ডেকে নেন। সেই সঙ্গে মৌলভীকেও ১০ লাখ রুপি গুছিয়েও রাখতে বলেন।

সাংবাদিকদের সামনে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, লাউডস্পিকার নয়, আজান গুরুত্বপূর্ণ, আরতি গুরুত্বপূর্ণ, লাউডস্পিকার নয়।
মৌলভীর দেয়া ফতোয়ার প্রতিক্রিয়ায় সনু বলেন, কিছুক্ষণের মধ্যেই আমি মাথা ন্যাড়া করে ফেলব। এটা কোন চ্যালেঞ্জ নয়। এটা অনুরোধ। এই দেশে তোমরা এসব কি করছ?’ আমি একজন আস্তিক হলেও এটা বিশ্বাস করিনা যে আমার ধর্মই শ্রেষ্ঠ কিন্তু তোমারটা যে সেরা নয় সেটা নিশ্চিত। আমি এগুলোতে বিশ্বাস করিনা। আপনাকে উগ্রবাদের বিরুদ্ধে চুপ না থেকে যুদ্ধ করতে হবে।’ এরপরই সংবাদ সম্মেলন চলাকালীন সময়েই তিনি মাথা ন্যাড়া করে ফেলেন।
সনু বলেন, ‘আমি আলিমকে আসতে বলেছিলাম। সেই আমার মাথা কমিয়ে দিয়েছে কিন্তু এটা কোন চ্যালেঞ্জ নয়। যে ব্যক্তি আমার মাথা কামিয়েছে সে মুসলিম আমি হিন্দু। এরমধ্যে কোন বিদ্বেষ নেই। ফতোয়ার একই ভাষা কিন্তু ভালোবাসার ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা যেতে পারে। ধর্মনিরপেক্ষতা মানে অন্যের সমস্যা বোঝার চেষ্টা করতে হবে, আমি সঠিক এমনটা ভাবা ঠিক নয়।

নিজের করা টুইটগুলোর ব্যাপরে এই শিল্পী আরো বলেন, প্রত্যেকেরই নিজের মত প্রকাশের অধিকার আছে। আমি শুধুমাত্র লাউডস্পিকারের ব্যবহার নিয়ে কথা বলেছি। আমি সামাজিক সমস্যা নিয়ে কথা বলেছি, ধর্ম নিয়ে নয়। মন্দির, গুরুদুয়ারা ও মসজিদ সবকিছু নিয়েই বলেছি তাহলে বুঝতে এত অসুবিধা হচ্ছে কেন?

মুহাম্মদ সা.কেও কোনভাবে বিতর্কিত করার চেষ্টা করেননি বলেও জানান এই গায়ক।
উল্লেখ্য, আজান নিয়ে বিতর্কিত টুইটের জেরে সোমবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দিনভর সমালোচনা করা হয় গায়ক সোনু নিগমকে নিয়ে। তবে এরপরও তিনি সমানে টুইট করে গিয়েছেন।

মঙ্গলবার দুপুরে তিনি টুইটে লেখেন, …আপনার স্ট্যান্ড দেখে বোঝা যায় আপনার আইকিউ কোন লেভেলের। আমি বলেছিলাম মসজিদ এবং মন্দিরে লাউডস্পিকার বাজানো উচিত নয়।

মুম্বাইতে সোনু যেখানে থাকেন তার ঠিক সামনেই একটি মসজিদ রয়েছে। প্রতি দিন ভোরে আজানের শব্দে তাঁর ঘুম ভাঙে, এমনটাই তার দাবি। তার দাবি ছিল, ‘তিনি মুসলিম নন। অথচ প্রতি দিন সকালে আজানের আওয়াজে তার ঘুম ভাঙে। এর পরেই তার প্রশ্ন, জোর করে এ ভাবে ধর্মের সশব্দ ঘোষণা এ দেশে কবে বন্ধ হবে?
মিনিট পাঁচেক পরের এক টুইটে লিখেন, মুহাম্মদ যখন ইসলাম সৃষ্টি করেন, তখন তো বিদ্যুৎ ছিল না। তা হলে এখন এই চিত্কার-চ্যাঁচামেচি কেন সহ্য করতে হবে? সোনু লিখেন, মন্দির বা গুরুদ্বারেও ভোরবেলা আলো জ্বালিয়ে অন্য ধর্মের মানুষের ঘুম ভাঙিয়ে দেওয়াতেও আমি বিশ্বাস করি না।
টুইটারে সোনুর এইসব মন্তব্যের পরেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিতর্কের ঝড় ওঠে। টাইমস অব ইন্ডিয়া, ডেকান ক্রনিকল।