এবার কসাইদের গরু বেচাকেনাতেও নিষেধাজ্ঞা

ভারতের বেশির ভাগ রাজ্যে গরু বেচাকেনা বন্ধ হলেও এতদিন মাংস বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহকারী কসাইরা এ নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত ছিলেন। তবে গতকাল শুক্রবার খোলাবাজারে কসাইদের গরু কেনাবেচার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার।

গরু বেচাকেনা বন্ধে এক নির্দেশনা জারি করে ভারতের কেন্দ্রীয় পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের তরফে জানানো হয়েছে, এর ফলে ভারতে গবাদি পশু নিধনের ক্ষেত্রে রাশ টানা সম্ভব হবে।

তবে খোলাবাজার থেকে কসাইয়ের উদ্দেশ্যে গরু কেনা না গেলেও বৈধ কসাইখানাগুলো পশু পালন খামার থেকে সরাসরি পশু কিনতে পারবে বলে ওই নির্দেশনায় জানানো হয়েছে।

ওই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, গরু কেনার আগে লিখিতভাবে ক্রেতাকে জানাতে হবে, তিনি গরুটি কসাইয়ের জন্য কিনছেন না। সেই সঙ্গে পশু বাজার কমিটিকে লিখিতভাবে জানিয়ে দিতে হবে, বাজারে পশু বিক্রি করা হচ্ছে শুধুমাত্র কৃষিকাজের জন্য। প্রতিটি গবাদি পশু মালিকের অনুমতিপত্র ছাড়া কেউ গরুকে পশু বাজারে নিয়ে আসতে পারবে না। বাজারে ঢোকার আগে সেই অনুমতিপত্র দেখাতে হবে। প্রতিটি অনুমতিপত্রের সঙ্গে পশুর আসল মালিকের নাম-ঠিকানা ও ছবি অবশ্যই থাকতে হবে।

সরকারি এই নিয়মের কড়াকড়িতে কৃষকদের যাতে কোনো অসুবিধা না হয় তার জন্য নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যিনি গরু কিনছেন তাঁকে কৃষিজীবী হতে হবে। এবং তাঁকে লিখিতভাবে অঙ্গীকার করতে হবে যে, ছয় মাসের মধ্যে তিনি পশু বিক্রি করবেন না এবং পশু পরিবহনের যথাযথ নিয়ম মেনে চলবেন।

ভারতের কেন্দ্রীয় পরিবেশমন্ত্রী হর্ষবর্ধন জানান, এই নতুন নিয়ম যথাযথ এবং নির্দিষ্ট। এই নিয়মের ফলে গবাদি পশু কেনাবেচার ক্ষেত্রে গরু বিক্রির ওপর  নিয়ন্ত্রণ আনা সম্ভব হবে।

পরিবেশমন্ত্রী আরো বলেন, পশুর কল্যাণের স্বার্থেই এই নিয়ম জারি করা হয়েছে। কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী এই নতুন নিয়ম শুধু গরু প্রজাতি যেমন গাভী, ষাঁড়, মোষ, বকনা-বাছুর ও উটের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের ওই নির্দেশনায় আরো বলা হয়েছে, ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের সীমান্ত এলাকা থেকে ২৫ কিলোমিটার এবং সীমান্তের ৫০ মিটারের মধ্যে কোনো পশু বাজার চালু করা যাবে না।

নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে পোলট্রি ছাড়া কোনো পশুকে ওজন করার জন্য মাটি থেকে উঁচু জায়গায় তোলা যাবে না। এমনকি পশুকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া যাবে না ও উঁচুতে বেঁধে বা ঝুলিয়ে রাখা যাবে না। বাছুরকে কোনোভাবেই বাজারে আনা যাবে না।

সরকারের নির্দেশনায় আরো বলা হয়, গরুর শিং রং করা এবং সাজানো যাবে না। তা ছাড়া নির্মম পন্থা দিয়ে গরু চিহ্নিত করাও যাবে না। গরুর পাশাপাশি মোষের কান কাটা এবং ছেঁকা দিয়ে তাদের শরীরে কোনো চিহ্ন আঁকা যাবে না।

কেন্দ্রের এই নির্দেশনায় ভারতের মাংস ও চামড়ার বাজারে সমস্যা সৃষ্টির পাশাপাশি দেশে সন্ত্রাস মাথাচাড়া দেবে বলে আশঙ্কা করছে বিরোধী রাজনৈতিক মহল। তাদের আশঙ্কা, এর ফলে প্রচুর মানুষ কাজ হারাবেন। সেই সঙ্গে ধর্মীয় বিভেদ আরো স্পষ্ট হবে।