ফ্রান্সের মেম নাকাশিপাড়ার লাউ চাখবেন

হাতেখড়ি হয়ে গিয়েছে। মাস চারেক হল একটি রফতানিকারক সংস্থার হাত ধরে বিদেশে পাড়ি দিচ্ছে নদিয়ার চাষিদের ফলানো সব্জি। মূলত জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি ও ইংল্যান্ডে।

সব্জি রফতানির পরিমাণ বাড়াতে এ বার কৃষকদের নিয়ে প্রশিক্ষণ শুরু করল উদ্যান পালন বিভাগ এবং একটি রফতানিকারক
সংস্থা। শুক্রবার দুপুরে নদিয়ার নাকাশিপাড়া কিষাণমান্ডিতে ওই ব্লকের অন্তত ৫০ জন কৃষককে নিয়ে এই প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছিল।

বিদেশে কোন ধরনের সব্জি ও ফলের চাহিদা রয়েছে, বিদেশে রফতানি যোগ্য সব্জি ও ফলের চাষ কী ভাবে এখানে করা যায়, এ সব বিষয় নিয়েই বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। উদ্যানপালন দফতরের নদিয়ার জেলা আধিকারিক কৃষ্ণেন্দু ঘোড়াই, ভারত সরকারের ‘সেন্ট্রাল ইন্ট্রিগ্রেটেড পেস্ট ম্যানেজমেন্ট সেন্টার’-এর অ্যাসিস্ট্যান্ট প্লান্ট প্রোটেকশন অফিসার অসীত বিশ্বাস-সহ রফতানিকারক সংস্থার ম্যানেজিং ডিরেক্টর উপস্থিত ছিলেন।

কৃষ্ণেন্দুবাবু বলেন, “কয়েক মাস হল নদিয়ার চাষিদের সব্জি বিদেশে রফতানি করা হচ্ছে। রফতানির পরিমাণ বাড়াতে চাষিদের চিহ্নিত করে তাঁদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।” যে চাষিদের সব্জি বিদেশে রফতানি করা হবে, তাঁদের ভারত সরকারের ‘এগ্রিকালচার অ্যান্ড প্রোসেসড ফুড প্রোডাক্ট এক্সপোর্ট ডেভলপ্টমেন্ট অথরিটি’র মাধ্যমে নাম নথিভুক্তকরণ করতে হবে। জেলা উদ্যান পালন বিভাগ অনলাইনে চাষিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করবে।

কী কী সবজি বিদেশে রফতানি হচ্ছে? রফতানিকারক সংস্থার কর্তা অঙ্কুশ সাহা বলছেন, “আমরা মুলত ইংল্যান্ড, ফ্র্যান্স, জার্মানি, ইতালিতে পটল, লাউ, চাল কুমড়ো, চিচিঙা, বরবটি, কাঠাল, রফতানি করছি। রোগপোকার আক্রমণ লাগা সব্জি রফতানি করা যাবেনা। সব্জি সতেজ এবং তাঁর গুণগতমান ভাল হলে তবেই বিদেশে রফতানি করা হয়। তাছাড়াও বিদেশে রফতানি যোগ্য সব্জি চাষে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারের পরিমাণ কমাতে হবে।’