রাশিয়ার সঙ্গে গোপন যোগাযোগ চেয়েছিলেন কুশনার?

জেরাড কুশনারের বিরুদ্ধে রাশিয়ার সঙ্গে গোপনে যোগাযোগের অভিযোগ তুলেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম। ছবি: রয়টার্স।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়ের জামাই জেরাড কুশনার রাশিয়ার সঙ্গে গোপনে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন বলে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম অভিযোগ তুলেছে। দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট ও নিউইয়র্ক টাইমস বলছে, মস্কোর সঙ্গে যোগাযোগের সময় যেন মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর নজরদারি এড়ানো যায়, সেটিই চেয়েছিলেন কুশনার।বিবিসি অনলাইনের খবরে জানানো হয়, হোয়াইট হাউসের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জেরাড কুশনার এ অভিযোগের ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। ট্রাম্পের জয়ের পেছনে রুশ হস্তক্ষেপ ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখছে মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (এফবিআই)। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে জেরাড কুশনারকেও নজরদারিতে রেখেছে এফবিআই।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমের করা প্রতিবেদনে তদন্ত কর্মকর্তাদের বরাতে বলা হয়েছে, রুশ হস্তক্ষেপ সম্পর্কে কুশনারের কাছে প্রাসঙ্গিক তথ্য আছে। তবে তিনি কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন কি না, এ ব্যাপারে কোনো প্রমাণ নেই। অবশ্য সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে ওয়াশিংটন পোস্ট দাবি করেছে, এফবিআই কর্মকর্তারা রুশ রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে কুশনারের এই বৈঠকের বিষয়ে বিশেষ মনোযোগ দিচ্ছে।
সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে নাম প্রকাশ না করার শর্তে মার্কিন সরকারের একটি সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, গত ডিসেম্বরের শুরুর দিকে নিউইয়র্কের ট্রাম্প টাওয়ারে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত সের্গেই কিজলিয়াকের সঙ্গে বৈঠক করেন কুশনার। সেখানে রুশ দূতাবাসের কারিগরি সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগিয়ে মস্কোর সঙ্গে একটি গোপন যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন তিনি। ওই বৈঠকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিনও উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।
স্নায়ুযুদ্ধের সময় থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে হটলাইন চালু আছে। মূলত সম্ভাব্য পরমাণু হামলা এড়াতেই দুই দেশের মধ্যে এই বিশেষ যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছিল। কুশনার ঠিক তেমনই একটি বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন বলে দাবি করা হচ্ছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের মধ্যবর্তী সময়ে সিরিয়া ও অন্যান্য নীতিগত বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্যই এই গোপন যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। ওয়াশিংটন পোস্ট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই প্রস্তাবে বিস্মিত হয়েছিলেন রুশ রাষ্ট্রদূত কিজলিয়াক। নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, প্রস্তাবিত ওই গোপন যোগাযোগব্যবস্থা কখনো চালু হয়নি।