শেষ হলো সাভারের জঙ্গিবিরোধী অভিযান, গ্রেফতার নেই

আজ শনিবার বিকেল ৪টার দিকে অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।

‘জঙ্গি আস্তানা’ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে তিনটি সুইসাইডাল ভেস্ট (বোমা থেকে রক্ষার বিশেষ বর্ম), দেশে তৈরি সাতটি হ্যান্ডগ্রেনেড, ল্যাপটপ, বেশ কিছু মোবাইল ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম।

অভিযানে থাকা কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের উপকমিশনার (ডিসি) মহিবুল ইসলাম খান জানান, ছয়তলা বাড়িটিতে কিছু বিস্ফোরক পাওয়া গেছে। সেগুলো সতর্কতার সঙ্গে নিষ্ক্রিয় করা হয়। ‘‘আমরা জানমালের সর্বোচ্চ নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছি’, বলেন মহিবুল।

বাড়িটির মালিক সৌদি আরবপ্রবাসী। তবে তাঁর পক্ষে ব্যাংক কর্মকর্তা ভাই সাকিব তা দেখাশোনা করতেন। আর এর কেয়ারটেকার হচ্ছেন সিরাজুল ইসলাম। সাকিব থাকেন মানিকগঞ্জ। তাঁকে খবর দিয়ে ঘটনাস্থলে আনা হচ্ছে।

ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) শাহ মিজান শাফিউর রহমান জানান, চট্টগ্রাম থেকে ধরা পড়া এক জঙ্গির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই সাভারে দুটি বাড়িতে অভিযান পরিচালিত হয়। সাভার পৌরসভার গেণ্ডা এলাকায় আনোয়ার হোসেনের পাঁচতলা বাড়িটি শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঘিরে অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

তবে অভিযান শুরুর আগেই ওই বাড়ি থেকে সটকে পড়েন সন্দেহভাজন ভাড়াটিয়ারা। পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে পার্শ্ববর্তী আরেকটি নির্মাণাধীন ছয়তলা বাড়িতে অভিযান শুরু করে কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। রাতেই অভিযান কার্যত স্থগিত করে শনিবার দিনের আলোয় শুরু হয় অভিযান।

এসপি জানান, বেলা ১১টার দিকে পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট ঘটনাস্থলে গেলে শুরু হয় দ্বিতীয় দফার অভিযান। মাইকিং করে বাড়িটির আশপাশের প্রায় ৫০ গজের ভেতর থেকে সব বাসিন্দাকে সরে যেতে বলা হয়। নিরাপত্তার কারণে বিচ্ছিন্ন করা হয় গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ। প্রস্তুত রাখা হয় ফায়ার ব্রিগেডের একাধিক ইউনিট।

ঢাকার এসপি বলেন, ছয়তলা ভবনটির দ্বিতীয় তলার নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়ার পর তা ভাড়া নিয়েছিলেন ‘কামাল হোসেন (৪০) নামে এক ব্যক্তি। তাঁর সঙ্গে পরিচয়ের সূত্রেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে প্রতিবেশী কবির হোসেনকে।