ধর্ষণের অভিযোগে বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেতা অন্তরঙ্গ ছবি ছাড়লো ফেসবুকে

ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ থেকে আজীবন বহিষ্কৃত আলমগীর কবির এবার নির্যাতিত সেই কলেজছাত্রীকে নিয়ে অন্তরঙ্গ ছবি ছেড়েছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে।

বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে তার নিজের ফেসবুক আইডিতে ওই মেয়ের সঙ্গে অন্তরঙ্গ ৯টি ছবি ছাড়া হয়। এরপর তা বিভিন্নজনে শেয়ার হয়ে ছড়িয়ে পড়ে।

এসব আপত্তিকর ছবি দিয়ে নিজের ফেসবুক ওয়ালে আলমগীর লেখেন, ‘ভালোবাসার মান রাখতে যেদিন আমার সঙ্গে পালানোর জন্য চলে আসছিল, তার বোনের কান্না ভোলানো কথায় নিজে গিয়ে তাকে বাসায় দিয়ে আসছিলাম। যাই হোক আমি জানি কিছু বিএনপিপন্থি ষড়যন্ত্রকারী এটা নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে। আর আমি এটা বিশ্বাস করি যে সত্যের জয় হবে নিশ্চিত। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু। জয় হোক ছাত্রলীগের।’

এদিকে ধর্ষকের এমন কাণ্ডে বিব্রত নির্যাতিতার পরিবার। তাদের অভিযোগ, মামলা হলেও পুলিশ এখনো ধর্ষক আলমগীরকে গ্রেফতার করতে পারেনি। এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব বিব্রতকর ছবি দিয়ে মানসম্মান নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে। আর এসবের পেছনে কলকাঠি নাড়ছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি প্রভাবশালী গ্রুপ।

নির্যাতিতার বাবা বলেন, ‘এত কিছুর পরও আলমগীরকে গ্রেফতার করতে পারছে না পুলিশ। এখন আসামিপক্ষ থেকে ৬ কোটি টাকা কাবিনে বিয়ে করানোর জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। নইলে আমাকে এবং আমার মেয়েকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে তারা। বর্তমানে আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’

কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি কামরুল ইসলাম গতকাল বিকালে বলেন, ‘এখনো আমরা ফেসবুকে দেওয়া ছবিগুলো দেখিনি। দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর আসামি ধরতে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।’

উল্লেখ্য, ১১ জানুয়ারি ময়মনসিংহের মুসলিম গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের দক্ষিণ পাশে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে এক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ করেন ভালুকার হবিরবাড়ী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আলমগীর কবির ও তার সহযোগিরা। ভুক্তভোগীর বাবা ঘটনার পাঁচ মাস পর ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। ১৫ মে মামলা হলেও গত মঙ্গলবার বিষয়টি জানাজানি হয়। মামলার অন্য আসামিরা হলেন চালক মোখলেছ (২৫) ও বন্ধু তুষার (২৬)।