ফরিদপুরে আ’লীগের দু’গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নিহত১, আহত২৫

ফরিদপুরের সালথায় আ’লীগের দু-গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে সরোয়ার মাতুব্বার (৩২) নামে এক যুবক নিহত হয়েছে। আজ রোববার সকালে উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের লক্ষণদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সরোয়ার লক্ষণদিয়ার পাঁশে বনগ্রামের মৃত খাদেম মাতুব্বারের ছেলে।

এসময় ব্যাপক বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট করে সংঘর্ষকারীরা। পুলিশ, ঘটনাস্থলে গিয়ে রাবার বুলেট ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্থানীয়রা ও পুলিশ জানান, গট্টি ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান লাভলুর সাথে গ্রাম্য দল-পক্ষ নিয়ে লক্ষণদিয়া গ্রামের মৃত আওয়ামীলীগ নেতা তেহারদ্দিদন মাতুব্বারের ছেলে হাফিজুর মাতুব্বারের দীর্ঘদিন যাবৎ বিরোধ চলে আসছে। এই বিরোধের জের ধরে শনিবার রাতে চেয়ারম্যানের সমর্থকদের সাথে হাফিজুরের সমর্থকের কথা কাঁটাকাটি ও হাঁতাহাতি হয়। এরই সূত্র ধরে রোববার সকালে উভয় দলের লোকজন দেশিয় অস্ত্র ঢাল-কাতরা, সঁড়কি-ভেলা, রামদা-ছোঁরা, ইটপাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ২ঘন্টাব্যাপী চলা এই সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক বসতঘর ভাংচুর, ৪/৫টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ব্যাপক লুটপাট করে সংঘর্ষকারীরা।এসময় প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে চেয়ারম্যানের সমর্থক সরোয়ার মাতুব্বার ঘটনাস্থলে মারা যায়। সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনতে সালথা থানা পুলিশ ১৫৭ রাউন্ড রাবার বুলেট ও ৬২টি টিয়ারসেল নিক্ষেপ করেন। এতে উভয় দলের অন্তত ২৫ জন আহত হয়। আহতদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও নগরকান্দা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।

ফরিদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার ও নগরকান্দা-সালথা সার্কেল এফ.এম মহিউদ্দীন বলেন, সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ রাবার বুলেট ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। এসময় ৪ জনকে আটক করা হয়। লাশ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।