হল ছেড়েছে জাবি শিক্ষার্থীরা

রবিবার সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের সাতটি এবং ছাত্রীদের আটটি আবাসিক হলের শিক্ষার্থীরা হল ছাড়তে শুরু করেন।

আজ দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান। সাক্ষাৎ শেষে সাড়ে ১২টার দিকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা উপাচার্যের বাসভবন থেকে বের হন।

গতকাল শনিবার রাতে জরুরি সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্তে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণা করে রবিবার সকাল ১০টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হলত্যাগের নির্দেশ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গতকালের ঘটনার পর থেকেই ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এ সময় ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জুয়েল রানা বলেন, ‘আমরা আমাদের পক্ষ থেকে আহত শিক্ষার্থীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া, উপাচার্যের বাসভবনে ভাঙচুর-হামলাকারী শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাস থেকে বহিষ্কার করা এবং হল খোলা রাখার দাবি জানিয়েছি।’

ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একটি অংশ দুপুর সাড়ে ১২টায় উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করতে তাঁর বাসভবনে যায়।

সেখানে যাওয়ার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগে অধ্যাপক নাসিম আক্তার হোসাইন বলেন, ‘উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাতের আগে আমরা শিক্ষকরা সভা করেছি। আমরা গ্রেপ্তার শিক্ষার্থীদের অবিলম্বে ছাড়িয়ে আনা, আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনাসহ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারী ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বিচারের দাবি জানাব।’

সড়ক দুর্ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ও ক্যাম্পাসে তাঁদের জানাজা না করার প্রতিবাদে শনিবার দুপুর পৌনে ১২টা থেকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন শিক্ষার্থীরা।

বিকেল ৫টার দিকে পুলিশ লাঠিপেটা, গুলি-টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এর পর বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বাসভবন ঘেরাও করেন। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বাসভবনের ফটকের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন।

উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় উপাচার্যের বাসভবনের জানালার কাঁচ, ফুলের টব ও সিসি ক্যামেরা ভাঙচুর করেন তাঁরা। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বাসভবনের ভেতরে প্রবেশ করতে চাইলে সেখানে থাকা শিক্ষকদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ধস্তাধস্তি হয়।

শিক্ষকদের দাবি, এ সময় দুই থেকে তিনজন শিক্ষক আহত হন এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হন আরো ছয় থেকে সাতজন শিক্ষক। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাত পৌনে ৯টার দিকে বাসভবন এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পুলিশ গিয়ে বাসভবনের ফটক বন্ধ করে দিয়ে ভেতরে থাকা শিক্ষার্থীদের অবরুদ্ধ করে রাখে।

ওই সময় উপাচার্যের বাসভবনেই জরুরি সিন্ডিকেট সভা শুরু হয়। সিন্ডিকেটে বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা ও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রাত ১২টায় সিন্ডিকেট সভা শেষ হলে আগে থেকেই অবরুদ্ধ করে রাখা শিক্ষার্থীদের গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় পুলিশ।