ইসলামের দৃষ্টিতে রোগীর সেবা ও ফজিলত

188

মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। তাই মানুষের সেবা করা মানুষের প্রধান কাজ। বিশেষ করে অসুস্থ, অসহায়, দুর্বল, গরিব-দুস্থ ও আর্তমানবতার সেবা করা একান্ত আবশ্যক। সামাজিক জীবনের অন্যসব বিষয়ের মতো রোগীর সেবার ক্ষেত্রেও ইসলামের রয়েছে নির্দেশনা। নবি মুহাম্মদ [সা.] নিজে রোগীর সেবায় বিশেষ মনোনিবেশ করেছেন।

এ প্রসঙ্গে বহু হাদিস বর্ণিত হয়েছে। হজরত রাসুলুল্লাহ [সা.]  রোগীর সেবার প্রতি গুরুত্বারোপ করার পাশাপাশি রোগীর সেবা-শুশ্রুষার ফজিলত বর্ণনার মাধ্যমে সব মুসলমানকে রোগীর সেবার প্রতি উৎসাহ প্রদান করেছেন। হজরত আনাস ইবনে মালেক [রা.] থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুলে করিম [সা.] বলেছেন, যে ব্যক্তি খুব ভালোভাবে অজু করল অতঃপর সওয়াবের নিয়তে কোনো মুসলমান রোগীর শুশ্রুষা করল তার ও জাহান্নামের মধ্যে ৭০ বছরের দূরত্ব সৃষ্টি করে দেয়া হবে। [আবু দাউদ]।

হজরত রাসুলুল্লাহ [সা.] রোগীর সেবা না করার পরিণতি বর্ণনা করে মুসলমানদের রোগীর সেবায় উদ্বুদ্ধ করেছেন। হজরত আবু হুরায়রা [রা.] থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল [সা.] ঘোষণা করেছেন, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তায়ালা বলবেন, হে আদম সন্তান! আমি অসুস্থ ছিলাম, কিন্তু তুমি আমার সেবা করনি। বান্দা বলবে হে আমার প্রতিপালক! আপনি তো গোটা বিশ্বের প্রতিপালক। আমি কি করে আপনার সেবাশুশ্রুষা করতে পারি। তখন আল্লাহ তায়ালা বলবেন, তুমি কি জাননি যে, আমার অমুক বান্দা অসুস্থ হয়েছিল, কিন্তু তুমি তার সেবা করনি। যদি তুমি তার সেবা-শুশ্রুষা করতে, তাহলে তুমি সেখানে আমি আল্লাহকে পেতে। [মুসলিম শরিফ]।

নবি করিম [সা.] কোনো রোগীকে দেখতে গেলে বা কোনো রোগীকে তার কাছে নিয়ে এলে তিনি তার মাথায় হাত বুলাতেন। তার জন্য দোয়া করতেন। অনেক সময় রোগীকে জিজ্ঞাসা করতেন, তুমি কী কোনো কিছু খেতে চাও? যদি রোগী কোনো কিছু খাওয়ার আগ্রহ ব্যক্ত করত, তখন তার জন্য তিনি খাদ্যের ব্যবস্থা করতেন।

মহানবির [সা.] রোগী সেবা শুধু মুসলমানদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, তিনি অমুসলিমদের অসুস্থতায়ও তাদের শুশ্রুষা করতে কুণ্ঠাবোধ করেননি। তবে রোগী দেখতে গেলে মনে রাখতে হবে, রোগীর সঙ্গে বা তার সামনে রোগের জটিলতার ব্যাপারে আলোচনা করা যাবে না। তাতে রোগী মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে এবং মানসিক বিপর্যস্ততার কারণে সে আরো অসুস্থ হয়ে যেতে পারে।