অবাধ-নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে বিরোধী দলের সঙ্গে সংলাপের আহবান যুক্তরাজ্যের

74
বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং জবাবদিহিমূলক সরকার গঠনের ক্ষেত্রে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসাবে দেখছে যুক্তরাজ্য। এজন্য একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনকে রাজনৈতিক প্রভাব মুক্ত রাখা অপরিহার্য বলে মনে করে বাংলাদেশের এই ঘনিষ্ঠ বন্ধু দেশটি।তাই সকল বিরোধী দলের যাতে নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা সৃষ্টি হয় সেজন্য একটি ফলপ্রদ সংলাপ আয়োজন করতে বাংলাদেশ সরকারকে বারবার তাগিদ দিয়ে আসছে ব্রিটেন।
গণতন্ত্রের সূতিকাগার বলে পরিচিত ব্রিটিশ পার্লামেন্টে চলতি বছরের শুরু থেকে বাংলাদেশে গণতন্ত্র, সুশাসন, মানবাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, বিরোধী রাজনৈতিক দল ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর দলন-পীড়ন, রোহিঙ্গা শরণার্থী ইস্যুসহ  অবাধ-সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ নির্বাচন বিষয়ে সরব আলোচনা চলে আসছে।
সম্প্রতি দেশটির পররাষ্ট্র ও কমন ওয়েলথ বিষয়ক মন্ত্রী মি. মার্ক ফিল্ড হাউস অব কমন্সে জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্য দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য। বাংলাদেশে সকল পর্যায়ের নির্বাচনেই প্রার্থীদের জয়-পরাজয় নির্ধারণ করে  নির্বাচন কমিশন। অতএব হার-জিতের নিয়ামক শক্তি হিসাবে মুখ্যভূমিকা পালনকারী এই প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে বাংলাদেশ সরকারকে যুক্তরাজ্য বারবার তাগিত দিয়ে আসছে। এজন্য সকল বিরোধী দলসমূহের সমন্বয়ে একটি অর্থবহ সংলাপ আয়োজনের আহবান জানানো হয়েছে। সরকারের পাশাপাশি বিরোধীদলগুলোকেও যুক্তরাজ্য অনুরোধ জানিয়েছে।
তিনি বলেন, এবছরের শুরুতে অর্থাৎ ৯-১০ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আসন্ন নির্বাচন বিষয়ে যুক্তরাজ্যের মতামত তার কাছে পেশ করা হয়েছে। এমনকি গত ১৯ এপ্রিল কমনওয়েলথ সম্মেলনের সময়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মি. আলীর সঙ্গে এক বৈঠকে অবাধ-নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান এবং বিরোধীদল যাতে তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সমান সুযোগ পায় সেই পরিবেশ সৃষ্টি করতে বিশেষভাবে জোর দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, মি. আলীর সঙ্গে ৩০ মিনিটের বৈঠকে অন্যান্য বিষয়াদির পাশাপাশি একটি অবাধ-সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ নির্বাচনের বিষয়ে ব্রিটেন সরকারের মনোভাব পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে মর্মে তিনি উল্লেখ করেন।
মি. মার্ক বলেন, যুক্তরাজ্য ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশ সরকারকে সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ এবং সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ মুক্ত একটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে শক্তিশালী গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া চালু করতে ব্রিটেন সরকারের চাপ অব্যাহত থাকবে বলে হাউস অব কমন্সে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরো বলেন, ব্রিটেন সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সরকারকে একটি স্বচ্ছ ও অহিংস নির্বাচন নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে । তিনি আরো বলেন, আগামী নির্বাচনে নির্বাচনী আইনের যথার্থ প্রয়োগ দেখতে চায় যুক্তরাজ্য। এজন্য আমাদের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশের স্থানীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোকে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী কিস্তিতে অর্থায়ন করে যাচ্ছি। যাতে এই সংস্থাগুলো পর্যবেক্ষণে যথার্থ সামর্থ অর্জন করতে পারে। তবে যুক্তরাজ্যের নিজস্ব নির্বাচনী পর্যবেক্ষক দল মোতায়েনের জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত কোনো অনুরোধ পাওয়া যায়নি।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে এ বছরের শেষের দিকে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে দেশটির সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে গভীর সম্পর্ক অব্যাহত রাখবে যুক্তরাজ্য।
মি. মার্ক বলেন, তহবিল আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতির দায়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি নেতা  খালেদা জিয়া ৫ বছরের সাজা প্রাপ্ত হয়েছেন আদালত থেকে। এ বিষয়ে অপর একটি দেশের বিচার পদ্ধতিতে আমাদের কথা বলা সমীচীন নয়। তবে বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মাঝে সংলাপের অনুপস্থিতির বিষয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র উত্তরণে যুক্তরাজ্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যুক্তরাজ্য আসাকরে যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মি. আলী আসন্ন নির্বাচন বিষয়ে ব্রিটেন সরকারের মনোভাব পরিষ্কারভাবে বুঝতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি আরো বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে এবং সরকারিভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সকলদলের অংশগ্রহনে নিরপেক্ষ নির্বাচনের গুরুত্ব ও বিরোধী দলের প্রতি গণতান্ত্রিক সুযোগ প্রধানের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে অনুরোধ করেছি। যুক্তরাজ্য  বাংলাদেশকে শান্তিপূর্ণ পথ এগিয়ে  যেতে  রাজনৈতিক দলগুলোর মাঝে সংলাপকে উৎসাহিত করবে।
এ আলোচনায় অংশ নেন স্যার ডেভিট ক্রাউসবি এমপি, মিসেস অ্যান মাইন্ এমপি, লীন ব্রাউন এমপি, ড. পল উইলিয়ামস প্রমুখ।