সরবরাহ বাড়ায় কমছে ডিমের দাম

57

সরবরাহ বাড়ায় কমতে শুরু করেছে ডিমের দাম। গত সপ্তাহে ফার্মের মুরগির ডিম ডজন (১২টি) বিক্রি হয় ১০০-১০৫ টাকায়। শুক্রবার তা বিক্রি হয়েছে ৯০-৯৫ টাকা। দুই সপ্তাহ ধরে শীতের সবজির দাম কমতে থাকলেও এদিন চার ধরনের সবজির দাম বেড়েছে।

তবে চাল, ডাল, ভোজ্য তেল, মাছ-মাংসসহ বেশির ভাগ নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, রামপুরা বাজার ও শান্তিনগর কাঁচাবাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

কারওয়ান বাজারের ডিম বিক্রেতা ইফতেকার আলম বলেন, গত কয়েক সপ্তাহ ডিমের দাম একটু বাড়তি ছিল। তবে বৃহস্পতিবার রাত থেকে বাজারে সরবরাহ বাড়ায় দাম কমতে শুরু করেছে। গত সপ্তাহে আকার ও মান ভেদে এক ডজন ডিম বিক্রি করেছি ১০০-১০৫ টাকা। তা আজ (শুক্রবার) বিক্রি করছি ৯০-৯৫ টাকা। সরবরাহ বাড়তে থাকলে দাম আরও কমার সম্ভাবনা আছে।

তবে বাজারে ডিমের দাম কমলেও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার মুদি দোকানে গত সপ্তাহের মতোই প্রতি ডজন ১০০-১০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। জানতে চাইলে বাড্ডা শাহজাদপুর এলাকার হামিম কনফেকশনারির মালিক মো. এখলাস বলেন, বাজারে ডিমের দাম কমেছে কি না, তা এখনও জানি না। কম দামে কিনতে পারলে কম দামে বিক্রি করব।

দুই সপ্তাহ ধরে বাজারে শীতের সবজির দাম কমছিল। একাধিক সবজি ক্রেতার ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আসতে শুরু করেছিল। কিন্তু শুক্রবার বাজারে চার ধরনের শীতের সবজি বেশি দামে বিক্রি হয়। তবে অন্যান্য সবজি ক্রেতার ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আছে।

রাজধানীর কারওয়ান বাজার, রামপুরা বাজার ও শান্তিনগর কাঁচাবাজারের সবজি বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুক্রবার প্রতি কেজি শিম আকার ভেদে বিক্রি হয় ৪০-৫৫ টাকা, যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয় ৩০-৫০ টাকা। বাজারগুলোয় প্রতি কেজি বরবটি বিক্রি হয় ৫০-৬৫ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হয়েছে ৪০-৫০ টাকা। প্রতি পিস লাউ বিক্রি হয়েছে ৪০-৫০ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হয় ৩০-৪০ টাকা। বেগুন বিক্রি হয়েছে ৪৫-৫০ টাকা কেজি, যা এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হয়েছে ৪০-৪৫ টাকা কেজি।

গত সপ্তাহের তুলনায় ফুলকপির দাম কমেছে। আকার ভেদে প্রতি পিস ফুলকপি বিক্রি হয় ১০-২৫ টাকায়, বাঁধাকপি বিক্রি হয় ২০-৩০ টাকা। পটোল ৩৫-৪০ টাকা কেজি। ঢ্যাঁড়শ, করলা, ঝিঙা, ধুন্দলের দাম কমে ৩০-৪০ টাকার মধ্যে বিক্রি হয়। কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি বিক্রি হয় ৪০-৫০ টাকা। দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয় ৩৫-৪০ টাকা কেজি। আর আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হয় ২৫-৩০ টাকা কেজি।

এ ছাড়া বাজারে শীতকালীন শাকের মধ্যে এক আঁটি পালংশাক বিক্রি হয় ১০-২০ টাকা। লালশাক বিক্রি হয় ৫-১০ টাকা আঁটি। লাউশাক বিক্রি হয় প্রতি আঁটি ২০-৩০ টাকা। পুঁইশাক ১০-২০ টাকা। টমেটো ও গাজরের দাম এখনও কমেনি। আর উচ্চমূল্যে বিক্রি হচ্ছে মৌসুমের নতুন আলু। সেক্ষেত্রে বাজারে প্রতি কেজি গাজর গত সপ্তাহের মতো ৮০-৯০ টাকায় বিক্রি হয়। পাকা টমেটো বিক্রি হয় ৬০-৮০ টাকা কেজি। কাঁচা টমেটো ৫০-৬০ টাকা। আর নতুন আলু ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়।

রাজধানীর শান্তিনগর কাঁচাবাজারে নিত্যপণ্য কিনতে আসা জাহিদুল ইসলাম বলেন, ডিমের দাম কমতে শুরু করেছে। কিন্তু যখন সবজির দাম কমার কথা, তখন দেখছি কিছু সবজির দাম বাড়ছে। ছুটির দিনে বাজারে এক কেজি বা তার চেয়ে একটু কম ওজনের ইলিশ বিক্রি হয়েছে ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা। ৮০০-৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি পিস বিক্রি হয়েছে ৭০০-৮০০ টাকা। ৫০০-৬০০ গ্রাম ওজনের প্রতি পিস ইলিশ বিক্রি হয়েছে ৩০০-৩৫০ টাকা।

প্রতি কেজি পাঙ্গাশ ১২০-১৩০ টাকা বিক্রি হয়। কেজি প্রতি কই ১৬০-২০০ টাকায় বিক্রি হয়। তেলাপিয়া ১২০-১৬০ টাকা কেজি, রুই ২৮০-৩০০ টাকা কেজি, ট্যাংরা ৩৫০-৪৫০, শিং ৩০০-৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। আর চিংড়ি প্রতি কেজি বিক্রি হয় ৫০০-৯০০ টাকা। অন্যদিকে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৩০-১৪০ টাকায় বিক্রি হয়। পাকিস্তানি কক ২৩০-২৪০ টাকা, দেশি মুরগি ৪০০-৪৫০ টাকায় বিক্রি হয়। গরুর মাংস প্রতি কেজি ৪৮০-৫০০ টাকা, খাসির মাংস ৭৮০ টাকা এবং ছাগলের মাংস ৬৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়।