শীতের বন্ধু হোক গ্লিসারিন

44

সৌন্দর্যচর্চায় সব সময় নিরাপদ উপাদান ব্যবহার করার অভ্যাস কম-বেশি সবার থাকা উচিত। আর সৌন্দর্য রক্ষার মূল চাবিকাঠি নিজের প্রতি সচেতনতা। সৌন্দর্য সচেতন সবাই চান তার সৌন্দর্য যাতে স্থায়ী থাকে।

বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সৌন্দর্য যাতে স্থায়ী থাকে নষ্ট যাতে না হয় সেদিকে সবার খেয়াল রাখা জরুরি। তাই আসল সৌন্দর্যকে ধরে রাখতে চাইলে সঠিকভাবে যত্ন নিতে হবে।

শীত আসতে শুরু করেছে। এ সময়ে রূপচর্চার উপকরণেও কিছুটা পরিবর্তন আনতে হবে। বাজারে এখন অনেক ধরনের প্রসাধনী পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু সেসব প্রসাধনী সবই যে ত্বকের জন্য ভালো তা কিন্তু নয়। কিন্তু তারপরও সবার ঝোঁক থাকে বাজারে ভালো ভালো প্রোডাক্টের ওপর।

তবে এসব প্রোডাক্টের প্রসাধনী ব্যবহার করলে যে আপনার উপকার করবে তা কিন্তু নয়। অনেক সময় নরমাল প্রোডাক্টের প্রসাধনী আপনাকে শীতের রুক্ষতা থেকে রক্ষা করতে পারে। ঠিক তেমন একটি উপাদান হল গ্লিসারিন। আর গ্লিসারিন কীভাবে ত্বক ও চুলে ব্যবহার করবেন তা নিয়ে বিশদ আলোচনা করেছেন আকাঙ্খা’স গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ডের স্বত্বাধিকারী

গ্লিসারিন হল একটি অর্গানিক কমপাউন্ড। এটা তৈরি হয় অক্সিজেন, হাইড্রোজেন ও কার্বন দিয়ে। এ গ্লিসারিন ত্বক ও চুলের বিভিন্ন প্রোডাক্টে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। যেমন অ্যান্টিএজিং ক্রিম, নাইট ক্রিম এবং বিভিন্ন ধরনের হেয়ার মাস্কে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। গ্লিসারিন স্কিন ফ্রেন্ডলি উপাদান। যা কিনা আপনার ত্বকের পাশাপাশি চুলেরও উপকারী বন্ধু হিসেবে কাজ করে। গ্লিসারিন সারা বছর ব্যবহারের প্রয়োজন না হলেও শীতে আপনার রূপচর্চার ভালো বন্ধু হতে পারে। স্বচ্ছ বোতলে ভরা এ গ্লিসারিন থাকে। তবে এর ব্যবহার জানা থাকলে খুব সহজেই ঘরে বসে আপনি গ্লিসারিন ব্যবহারের ফলে এর উপকারিতা নিজেই অনুধাবন করতে পারবেন।

টোনার
এক কাপ গ্লিসারিন ও সমপরিমাণ গোলাপ জল মিশিয়ে নিয়ে টোনার তৈরি করে নিতে পারেন। এটা স্প্রে বোতলে ভরে রেখে দিতে পারেন। যখনই মুখ পরিষ্কার করবেন তখনই নরম টাওয়াল দিয়ে মুছে নিয়ে টোনার স্প্রে করে নেবেন। টোনিংয়ের পাশাপাশি এটি ময়েশ্চারাইজারেরও কাজ করবে।

পা ফাটা রোধে
পা ফাটার সমস্যা কম-বেশি সবারই হয়ে থাকে। তবে যাদের হয় শীতে তাদের পা আরও বেশি ফাটে, খসখসে হয়ে যায়, দেখতেও অসুন্দর লাগে। তাই রাতে ঘুমানোর আগে উষ্ণ গরম পানিতে লবণ দিয়ে ৫ মি. পা ভিজিয়ে রাখুন। এরপর শুকনো করে মুছে হাতের তালুতে গ্লিসারিন নিয়ে পায়ে ম্যাসাজ করে নিন। তারপর কটনের মোজা পরে নিন। এভাবে প্রতিদিন রাতে যদি গ্লিসারিন ব্যবহার করা হয় তাহলে পা ফাটা সমস্যা থাকবে না।

ঠোঁটের যত্নে
শীতকালে ঠোঁট শুষ্ক হয়ে যায়। এর ফলে ঠোঁট ফাটতে শুরু করে। তাই ১ চা-চামচ গ্লিসারিন, ১ চা-চামচ মধু মিশিয়ে নিয়ে বোতলে ভরে রেখে দিন। দিনে ২-৩ বার এ মিশ্রণটি ঠোঁটে লাগিয়ে ম্যাসাজ করে নিন বিশেষ করে রাতে ঘুমানোর আগে অবশ্যই ম্যাসাজ করুন ১ বার। তবে যখনই ম্যাসাজ করবেন ২-৩ মি. রাখার পর ভেজা রুমাল দিয়ে মুছে ফেলুন। যদি সঠিকভাবে ঠোঁটের যত্ন নেয়া হয় তাহলে সারা শীতে ঠোঁটের শুষ্কতা ও ঠোঁট ফাটার সমস্যা থাকবে না।

চুলের আগা ফাটা রোধে গ্লিসারিন ব্যবহার
রাতে চিরুনি দিয়ে ভালো করে চুল আঁচড়িয়ে নিন। এরপর চুলের গোড়া বাদ দিয়ে আগা পর্যন্ত গ্লিসারিন দিয়ে তেলের মতো ম্যাসাজ করে নিতে হবে। যার যার চুলের পরিমাণ অনুযায়ী গ্লিসারিন নিতে হবে। এভাবে সারারাত রেখে সকালে শ্যাম্পু করে নিন। এতে করে চুলের আগা ফাটা সমস্যা দূর হয়ে যাবে এবং চুলের রুক্ষতাও থাকবে না।