আমন ধানের বাজারমূল্য অস্বাভাবিক কমে যাওয়ায় হতাশায় দাকোপের অধিকাংশ কৃষক। বিকল্প আয়ের পথ খুঁজে দেখছেন তারা।

অগ্রহায়ণের প্রথম সপ্তাহ থেকে শুরু হয়েছে ইরি জাতীয় ধান কাটা। মোটা ধান এখনও কাটা শুরু হয়নি। বর্তমানে ধান কাটার কাজে ব্যস্ত কৃষক। ধান কাটার পাশাপাশি চলছে মাড়াই ও বিক্রয়। পরিবারের সব কেনাকাটা এবং ঋণের টাকা পরিশোধ করার জন্য কৃষক তাকিয়ে থাকেন আমন ধানের দিকে। সেই ধানের বাজারমূল্য অস্বাভাবিক হ্রাস পাওয়ায় চোখে শর্ষেফুল দেখতে শুরু করেছেন দাকোপের কৃষকরা।

ধান ক্রয় বিক্রয়ের দুটি বড় হাট হল বাজুয়া বাজার এবং চালনা বাজার। বাজার দুটিতে পর্যায়ক্রমে মঙ্গলবার এবং বুধবারে হাট বসে। এ হাটে হাজার হাজার মণ ধান ক্রয়-বিক্রয় হয়। মঙ্গলবার বাজুয়ার হাট ও বুধবারে চালনা হাটে গিয়ে দেখা যায়, প্রতি বস্তা (৬০ কেজি) ধান বিক্রয় হচ্ছে ৭শ’ থেকে ৮শ’ টাকায়।

কৈলাশগঞ্জের কৃষক কালিপদ মণ্ডল, রণজিৎ মণ্ডল ও নান্টু জোয়াদ্দার যুগান্তরকে বলেন, এক বিঘা জমিতে ধান রোপণ থেকে মাড়াই পর্যন্ত খরচ হয় ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা। খরচ তো উঠছে না বরং প্রায় এক হাজার টাকা লোকসান হচ্ছে প্রতি বিঘা জমিতে।

বাজুয়া ইউনিয়নের কৃষক রমেশ মণ্ডল বলেন, আমি ৫ বিঘা জমিতে আমন ধানের চাষ করেছিলাম। ব্যয় হয়েছে ৪০ হাজার টাকা। ধানের বাজারের যে অবস্থা তাতে আমার ব্যাংক ঋণ পরিশোধ হবে না, ভাবছি অন্য কী কাজ করা যায়। ধারদেনা পরিশোধ করে পরিবার নিয়ে সারা বছর কীভাবে চলব? স্থানীয় অনেক এক কৃষক বলেন, জমিতে ধান লাগিয়ে আর লাভ নেই। খরচের দাম পাই না।

সরকার সার-বীজ-কীটনাশকের দাম কমায় না, আবার কৃষকের ধানের ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ করে না। তাহলে কৃষক বাঁচবে কী করে? তাই কৃষকরা এখন কৃষিকাজ ছেড়ে বিকল্প আয়ের কথা ভাবছে।