বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনের বহুল আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম হাইকোর্টের নির্দেশে প্রার্থীতা ফিরে পাওয়ার চারদিন পর শনিবার প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছেন। শনিবার বেলা সাড়ে ৩টায় বগুড়ার রিটার্নিং কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহাম্মদ হিরো আলমের হাতে সিংহ প্রতীক তুলে দেন।

২ ডিসেম্বর জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের প্রথম দিনেই হিরো আলমের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়। আপিল করলে নির্বাচন কমিশন শুনানির পর তা বাতিল করে। মনোনয়নপত্রে ভোটারের স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ তুলে আপিলেও তার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছিল। পরে নির্বাচন কমিশনে আপিল করলে সেখানেও তার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করে। হিরো আলম আদালতে গেলে হাইকোর্টের নির্দেশে তাকে মনোনয়নপত্র ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। হাইকোর্টের নির্দেশ পাওয়ার পর গতকাল শনিবার তার প্রতীক সিংহ তার হাতে তুলে দেওয়া হয়।

বগুড়া সদরের এরুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা হিরো আলম শৈশবে চানাচুর বিক্রি করতেন। পরে তিনি সিডি বিক্রি এবং ডিশ সংযোগের ব্যবসা করেন। নিজেই মিউজিক ভিডিও তৈরি করে ডিশ লাইনে সম্প্রচার শুরু করেন। এভাবে হিরো আলমের তৈরি মিউজিক ভিডিও এবং ইউটিউব সিনেমা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আলোচনায় আসেন। পরে ‘মার ছক্কা’ নামে একটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। বলিউড পরিচালক প্রভাত কুমারের ‘বিজু দ্য হিরো’ সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব পান।

২০১৬ সালে হিরো আলমের সঙ্গে ছবি তুলে ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম ফেসবুকে প্রকাশ করেন। এ নিয়ে বিবিসি হিন্দি, জি নিউজ, এনডিটিভি, ডেইলি ভাস্কর, মিড-ডের মতো ভারতের প্রথম সারির সংবাদমাধ্যমগুলো তাকে নিয়ে প্রতিবেদন করে। সেখানে হিরো আলমকে বাংলাদেশের বিনোদন জগতের তারকা বলে উল্লেখ করা হয়।

গুগলে কাকে সবচেয়ে বেশিবার খোঁজা হয়, তার একটি তালিকা করে ইয়াহু ইন্ডিয়া। জরিপে দেখা গেছে, ‘সুলতান’ ও ‘দাবাং’ তারকাখ্যাত সালমান খানের চেয়েও বেশিবার খোঁজা হয়েছে হিরো আলমকে। এবারের বাংলাদেশে নির্বাচনেও গুগল সার্চে শীর্ষে রয়েছেন হিরো আলম।

প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর আশরাফুল আলম বলেন,‌‌ ‘হাইকোর্টের আদেশের পাঁচ দিনের মাথায় অবশেষে সিংহ প্রতীক পেয়েছি। নির্বাচনী মাঠে এখন সিংহের মতোই গর্জন দিতে চাই। নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য এমপি হতে চাই না, জনগণের জন্য এমপি হতে চাই।’

হিরো আলম বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল খারিজ হওয়ার পর হাইকোর্টে রিট করে গত ১০ ডিসেম্বর প্রার্থিতা ফিরে পাই। হাইকোর্টের দেওয়া আদেশে প্রতীক বরাদ্দ প্রদানে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইসিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। পরদিন আদালতের আদেশের সত্যায়িত অনুলিপিসহ ‌“সিংহ” প্রতীক বরাদ্দ চেয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার নিকট আবেদন করি। শেষ পর্যন্ত শনিবার বিকেলে সিংহ প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছি।’