সঠিকভাবে শুল্ক কর নির্ণয় এবং দ্রুত পণ্য খালাসের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এসাইকুডা ওয়ার্ল্ডের মাধ্যমে বেনাপোল কাস্টমস হাউসকে ডিজিটালাইজড করেছে। এখন স্বচ্ছতার সাথে শুল্ক কর নির্ণয় করা হচ্ছে। এভাবে রাজস্ব আহরণে উন্নত পদ্ধতি চালু এবং আমদানি-রফতানি বাণিজ্যকে আধুনিকায়ন করা হয়েছে। ফলে রাজস্ব ফাঁকি যেমন হ্রাস পেয়েছে তেমনি বদলে গেছে শুল্কায়ন ও আমদানি-রফতানি বাণিজ্য পদ্ধতি।
বেনাপোল কাস্টমস হাউসে দ্রুত পণ্য খালাস হওয়ায় বাংলাদেশ ও ভারতের কাস্টমস কর্তৃপক্ষ প্রতিদিনের আমদানি-রফতানি তথ্য নিজেদের মধ্যে সরবরাহ করতে পারছে।
এ বিষয়ে বেনাপোল কাস্টম হাউসের কমিশনার মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন চৌধুরী বলেন,ফোল্ডার পদ্ধতি চালু করে শুল্কায়ন প্রক্রিয়ায় দ্রুত পণ্য খালাস এবং রাজস্ব ফাঁকি বন্ধে শক্তিশালী আইআরএম টিম গঠন করা হয়েছে।
তিনি জানান,কাস্টমস আইনে মোট আমদানি পণ্যের দশ ভাগ কায়িক পরীক্ষার বিধান থাকলেও এতদিন তা মানা সম্ভব হয়নি। এতে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। এখন পরিস্থিতি বদলে গেছে।
এনবিআর সূত্র জানায়, বেনাপোল কাস্টমস্ হাউসে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বসানো হয়েছে মোবাইল স্ক্যানার। আনা হয়েছে মাত্র ৩০ সেকেন্ডে ১৩ হাজার তরল ও কঠিন কেমিক্যালের নিখুঁত পরীক্ষা করার আধুনিক যন্ত্র রমন স্পেকট্রোমিটার। এই মেশিনে ভারত থেকে আমদানি করা বিভিন্ন কেমিক্যাল পণ্য পরীক্ষা করে দ্রুত পণ্য খালাস দেওয়া হচ্ছে। আগে ভারত থেকে আমদানি করা কেমিক্যাল জাতীয় পণ্য ঢাকা থেকে পরীক্ষার রিপোর্ট পেতে ১৫ দিন থেকে একমাস পর্যন্ত সময় লেগে যেত।
বেলাল চৌধুরী বলেন,বর্তমানে মোট আমদানি পণ্যের শতকরা ১৫ ভাগ পণ্যের কায়িক পরীক্ষা হচ্ছে। তবে খুব শিগগিরই আরো অনেক আমদানিকারকরা এই সুবিধা পাবেন।তাই বড় বড় অনেক মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি বেনাপোল বন্দরে পুনরায় ফিরে আসতে শুরু করেছে।
তিনি জানান,বেনাপোল চন্দর দিয়ে চলতি অর্থবছরের প্রথম ৪ মাসে গত অর্থবছরের ৪ মাসের তুলনায় রফতানি প্রায় দ্বিগুন বেড়েছে।
কোলকাতা থেকে বেনাপোল বন্দরের দূরত্ব কম ও সহজ হওয়ায় এই বন্দরের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পরিমাণ আরো বাড়ানো সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।
এদিকে,বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ঢেলে সাজানো হয়েছে। পাসপোর্টযাত্রী হয়রানি বন্ধে ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট এর আদলে বসানো হয়েছে আধুনিক স্ক্যানার মেশিন।যাত্রী যাতায়াত আগে এক পথে হলেও এখন ভারতে যাওয়া ও আসা যাত্রীদের জন্য পৃথক ব্যবস্থা করা হয়েছে।