গোসলের ফরজ কাজ হলো তিনটি। এ তিনটি কাজ যথাযথভাবে পালন না করলে ফরজ গোসল আদায় হয় না।

১.  কুলি করা । (বুখারি, হাদিস : ২৫৭, ২৬৫, ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৫৬৬)

২.  নাকে পানি দেওয়া। (বুখারি, হাদিস : ২৬৫, ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৫৬৬)

৩. সারা শরীরে এমনভাবে পানি পৌঁছানো, যাতে কোনো স্থান শুকনা না থাকে। (আবু দাউদ, হাদিস : ২১৭)

গোসলের সুন্নত: সুন্নতমতো গোসল করার জন্য নিম্নোল্লিখিত বিষয়গুলো খেয়াল রাখা প্রয়োজন, যাতে গোসল পরিপূর্ণ হয়।

১.  গোসল আরম্ভ করার আগে বিসমিল্লাহ পাঠ করা। (জমউল জাওয়ামে, হাদিস : ১৩০৭৩)

২.  পবিত্রতা অর্জনের নিয়ত করা। (বুখারি, হাদিস : ১)

৩.  উভয় হাতকে প্রথমে কবজি পর্যন্ত ধৌত করা। যেমন ওজুতে ধোয়া হয়। (বুখারি, হাদিস : ২৪০)

৪.  কাপড় বা শরীরে নাপাকি লেগে থাকলে তা গোসলের আগে ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া। (মুসলিম : ৪৭৪) 

৫.  গোসলের আগে অজু করা। কিন্তু জায়গা যদি এত নিচু হয় যে পানি জমে যায়, তাহলে পা পরে ধৌত করা। (বুখারি ২৪০, ২৪১)

৬.  পুরো শরীরে তিনবার পানি প্রবাহিত করা। (মুসলিম, হাদিস : ৪৭৪, ৪৭৬)

গোসলের প্রকারভেদ: গোসল তিন প্রকার—ফরজ, সুন্নত ও মুস্তাহাব।

গোসল কখন ফরজ হয় : চারটি কারণের একটি পাওয়া গেলে গোসল ফরজ হয়।

১.  কামনা পূরণের পর গোসল ফরজ হয়। যেমন—সহবাস, স্বপ্নদোষ বা যেকোনো উপায়ে বীর্যপাত হলে। (সুরা : মায়েদা, আয়াত : ৬)

২.  নারীদের মাসিক রক্তস্রাব বন্ধ হওয়ার পর পবিত্র হওয়ার জন্য গোসল ফরজ। (বুখারি, হাদিস : ৩০৯)

৩.  মহিলাদের নেফাস (সন্তান প্রসবের পরের রক্ত) বন্ধ হওয়ার পর গোসল ফরজ হয়। (কানজুল উম্মাল ৯/১১০৯)

৪.  মৃত ব্যক্তিকে গোসল দেওয়া জীবিতদের ওপর ফরজ। (বুখারি, হাদিস : ১১৭৫)

কখন গোসল করা সুন্নত: চার অবস্থায় গোসল সুন্নত।

১.  জুমার নামাজের জন্য গোসল করা সুন্নত। (তিরমিজি, হাদিস : ৪৮৬)

২.  দুই ঈদের নামাজের জন্য গোসল করা সুন্নত। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৩০৬)

৩.  ইহরামের জন্য। (তিরমিজি, হাদিস : ৭৬০)

৪.  হজযাত্রীদের জন্য আরাফায় অবস্থানকালে গোসল করা সুন্নত। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৩০৬) 

কখন গোসল করা মুস্তাহাব
কয়েকটি অবস্থায় গোসল করা মুস্তাহাব।

১.  শাবান মাসের ১৪ তারিখ রাতে। (জামেউল আহাদিস ৩৯/৪৮৬, আলফিকহুল ইসলামী : ১/৪৮০)

২.  কদরের রাতে। (বুখারি, হাদিস : ৩৪)

৩.  সূর্য ও চন্দ্র গ্রহণের নামাজ এবং বৃষ্টি প্রার্থনার নামাজের জন্য গোসল করা মুস্তাহাব। (আবু দাউদ : ২৯৯)

৪.  ভীতিকর পরিস্থিতি, ব্যাপক অন্ধকার এবং প্রচণ্ড মেঘের সময় গোসল করা মুস্তাহাব। (সুরা হাক্কাহ : ৬)

৫.  নতুন কাপড় পরিধানের সময়। (তিরমিজি, হাদিস : ২৭২৩)

৬.  গোনাহ ক্ষমা চাওয়ার সময়। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৪২৪০)

৭.  সফর থেকে প্রত্যাবর্তনের সময়। (তিরমিজি, হাদিস : ২৭২৩)

৮.  মদিনা মুনাওয়ারায় প্রবেশের সময়। (দারাকুতনি, হাদিস : ২৭২৬) 

৯.  মক্কা মুকাররমায় প্রবেশের জন্য গোসল করা মুস্তাহাব। (বুখারি, হাদিস : ১৪৭০) 

১০. কোরবানির দিন সকালে মুজদালিফায় অবস্থানের সময় এবং তাওয়াফে জিয়ারাতের জন্য গোসল করা মুস্তাহাব। (আবু দাউদ, হাদিস : ২৯৯)

১১. মৃত ব্যক্তিকে গোসল দানকারীর জন্য গোসল করা মুস্তাহাব। (আবু দাউদ, হাদিস : ২৭৪৯)

১২. শিঙা লাগানোর পর। (আবু দাউদ, হাদিস : ২৯৪) 

১৩. মাতাল বা বেহুঁশ ব্যক্তির স্বাভাবিক জ্ঞান ফেরার পর। (বুখারি, হাদিস : ৬৪৬)

১৪. ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার সময়, যদি সে পাক থাকে তবু গোসল করা মুস্তাহাব। কিন্তু সে যদি নাপাক থাকে, তবে তো গোসল করা ফরজ। (সহিহ ইবনে হিব্বান : ৪/৪২, সুরা : মায়েদা, আয়াত : ৬)