প্রখ্যাত কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী মারা গেছেন। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১২টা ২৫ মিনিট নাগাদ দক্ষিণ কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর।

নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যের একটা যুগের অবসান হয়ে গেল। দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন তিনি। অসুস্থ অবস্থাতেও কবিতা লিখতেন, সকলের সঙ্গে কথাও বলতেন। সোমবার হঠাৎই হৃদরোগে আক্রান্ত হন কবি। সেই ধাক্কা আর সামলাতে পারেননি।

অবিভক্ত বাংলার ফরিদপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি।কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক হয়ে তিনি সাংবাদিকতা শুরু করেন দৈনিক  ‘প্রত্যহ’ পত্রিকায়। একসময় যোগ দেন আনন্দবাজার পত্রিকায়। তাঁর হাত ধরেই শুরু হয় ‘আনন্দমেলা’ পত্রিকার পথ চলা। প্রতিষ্ঠানের ‘বানান বিধি’ সংকলনে তাঁর বড় অবদান রয়েছে।

একাধারে কবি, প্রাবন্ধিক, ঔপন্যাসিক, ছোটো গল্পকার ও সম্পাদক নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘নীল নির্জন’ প্রকাশিত হয় ১৯৫৪ সালে। এই বইটির প্রচ্ছদ করেন সত্যজিৎ রায়। একে একে প্রকাশিত হয় ‘অন্ধকার বারান্দা’ (১৯৬১), ‘নিরক্ত করবী’ (১৯৬৫), ‘নক্ষত্রজয়ের জন্য’ (১৯৬৯), ‘কলকাতার যিশু’ (১৯৬৯), ‘খোলা মুঠি’ (১৯৭৪), ‘কবিতার বদলে কবিতা’ (১৯৭৬), ‘আজ সকালে’ (১৯৭৮), ‘পাগলা ঘণ্টি’ (১৯৮১), ‘ঘর-দুয়ার’ (১৯৮৩), ‘সময় বড় কম’ (১৯৮৪), ‘ঘুমিয়ে পড়ার আগে’ (১৯৮৭), ‘দেখা হবে’ (২০০২)-সহ অজস্র কবিতার বই। ১৯৭১ সালে লেখা ‘উলঙ্গ রাজা’ তাঁর সেরা রচনাগুলির মধ্যে একটি। এই কাব্যগ্রন্থের জন্য ১৯৭৮ সালে ‘সাহিত্য আকাদেমি’ পুরস্কার পান কবি নীরেন্দ্রনাথ। তা ছাড়াও একগুচ্ছ পুরস্কার রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। ১৯৫৮ সালে ‘উল্টোরথ পুরস্কার’, ১৯৭০ সালে ‘তারাশঙ্কর স্মৃতি’ ও ১৯৭৬ সালে ‘আনন্দ শিরমণি’ পুরস্কার পান কবি। ২০০৭ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সাম্মানিক ডি. লিট প্রদান করে।

‘কবিতার ক্লাস’ ও ‘পিতৃপুরুষ’ নামে কবিতা বিষয়ক তাঁর দু’টি প্রবন্ধগ্রন্থ রয়েছে। কবির লেখা বিখ্যাত কবিতা ‘অমলকান্তি।’