বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ওরাল এন্ড ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জারি বিভাগের সহযোগীঅধ্যাপক ডা. রাজন কর্মকারের অকাল মৃত্যুতে শোকাহত তার পরিবার। তার এই হঠাৎ চলে যাওয়ায় তছনছ হয়ে গেছে তারসংসার। তার স্ত্রী একই বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জারী বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. কৃষ্ণা মজুমদার স্বামীর অকাল মৃত্যুতেদিশেহারা। ভালোবাসার মানুষটিকে হারিয়ে তিনি এখন শোকে মূহ্যমান। তিনি ঘরের প্রতিটি কোণে খুঁজে বেড়াচ্ছেন প্রাণ প্রিয়মানুষটিকে। এ

দিকে ডা. কৃষ্ণা মজুমদারের বাবা খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার জামাতার অকাল মৃত্যুতে শোকাহত হয়ে অসুস্থহয়ে পড়েছেন। তিনি কোনোভাবেই তার জামাতার এই অকাল মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না। প্রতিনিয়ত নিজের মেয়েকে সান্ত¦নাদিতে গিয়ে চোখের জল ফেলছেন নীরবে।একদিকে জামাতার অকাল মৃত্যুতে শোকাহত খাদ্যমন্ত্রী ও তাঁর পুরো পরিবার। অন্যদিকে রাজনের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে জল ঘোলা করে চলেছে ষড়যন্ত্রকারী একটি মহল।

ডা. কৃষ্ণা মজুমদারের নামে দেওয়া হচ্ছে তাঁর প্রাণের চেয়েও প্রিয় ভালোবাসার মানুষটিকেনির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ। অথচ যারা খাদ্যমন্ত্রী ও তার পরিবারকে বিপাকে ফেলতে এই ঘৃণ্য খেলায় মেতে উঠেছেন তারা কিএকটিবারের জন্যেও ভেবে দেখেছেন, এমন শোকের সময় যদি তাদের পরিবারের কাউকে সান্ত¦না না দিয়ে উল্টো হত্যারঅভিযোগ চাপিয়ে দেয়া হতো তাহলে তাদের কেমন লাগতো ? প্রসঙ্গত, গত ১৬ই মার্চ রোজ শনিবার রাত ৩ টার দিকে ডা. রাজন কর্মকার হঠাৎ করেই হৃদরোগে আকান্ত হলে তাকে দ্রুতরাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর কারণ হিসেবে হৃদযন্ত্রের μিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়াকে দায়ী করেন।

এ বিষয়ে স্কয়ার হাসপাতালের জরুরী বিভাগেরচিকিৎসক আসাদুজ্জামান বলেন, রাত পৌনে ৪ টার দিকে ডা. রাজনকে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তাকে পরীক্ষা নিরীক্ষা করার পর লাইফের কোনো সাইন পাওয়া যায়নি। তার শরীরে কোনো জখম ছিল না। প্রাথমিকভাবে আমরা ধারণা করছি, হৃদযন্ত্রের μিয়া বন্ধ হয়েই উনার মৃত্যু হয়েছে।

রাজনের পরিবারের পক্ষ থেকে ময়নাতদন্তের দাবি জানালে রাজনের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলে প্রেরণকরা হয়। সেখানে ময়নাতদন্ত শেষে ডা. রাজন কর্মকারের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে জানান ফরেনসিক
বিশেষজ্ঞগণ। ডা. রাজনের পোস্টমর্টেম শেষে এ তথ্য জানিয়েছেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেরপরিচালক অধ্যাপক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া। তিনি বলেন, ডা. রাজনের পোস্টমর্টেম আমাদের এখানে সম্পনড়ব হয়েছে। আমাদের
ফরেনসিক বিভাগ তার পোস্টমর্টেম করেছে। তার শরীরের বাইরে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না।

ডা. কৃষ্ণা মজুমদার চিরজীবনের জন্য নিজের ভালোবাসার মানুষটিকে হারিয়েছে। সে চাইলেও এখন খোশগল্পে মেতে উঠতেপারবে না ভালোবাসার মানুষটির সাথে, চাইলেই কোথাও ঘুরতে যেতে পারবেনা দুজন মিলে। কিছুদিন পর নতুন কোনো ইস্যুপেয়ে আমরা হয়তো ভুলে যাবো এই ঘটনা। কিন্তু কৃষ্ণা মজুমদার কি পারবে তাঁর প্রাণ প্রিয় স্বামীকে ভুলতে ?